বিজ্ঞাপন

ইভানার জন্য বন্ধু-সহকর্মীরা কালো ব্যাজ পরে থানায়

September 21, 2021 | 11:27 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার কর্মকর্তা ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি নিয়ে শাহবাগ থানায় হাজির হয়েছিলেন তার সহকর্মী-বন্ধুরা। তাদের পরনে ছিল কালো ব্যাজ। থানায় তারা একটি আবেদনও দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ইভানার মৃত্যুর ঘটনাটি পক্ষপাতহীন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগ থানায় ইভানার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের আবেদন নিয়ে হাজির হন তারা। কালো ব্যাজ পরা এই দলে ছিলেন ১১ জন আইনজীবীসহ ১৩ জন। তাদের পক্ষ থেকে থানায় আবেদনটি দাখিল করেন ইভানার শিক্ষক ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনওয়ার।

ইভানার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াসহ এ বিষয়ে মানসিক নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে আবেদনে। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও যে তাকে মানসিক নিপীড়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করেছে, উল্লেখ করা হয়েছে এ বিষয়টিও। এসব ঘটনার সপক্ষে কিছু তথ্যপ্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে আবেদনের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

ইভানার জন্য বন্ধু-সহকর্মীরা কালো ব্যাজ পরে থানায়

বিজ্ঞাপন

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা থানায় হাজির হলেও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অন্য একটি বৈঠকে থাকায় আবেদনটি জমা দিতে রাত প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। থানায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনওয়ার সারাবাংলাকে বলেন, ইভানার মৃত্যুর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমরা সেগুলোর প্রমাণসহ হাজির হয়েছি। এ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আবেদন নিয়ে আসছি। ওসি থানায় নেই। তিনি এলে আমরা আবেদনটি দেবো। তারা যদি মনে করেন যে এটি এফআইআর (মামলার এজাহার) হিসেবে নেবেন, তাতে আপত্তি নেই। আবার পুলিশ যদি মনে করে যে আবেদনে উল্লেখ করা আমাদের অভিযোগগুলো এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে যুক্ত করে নেবে, সেটি নিয়েও আপত্তি নেই আমাদের।

ব্যারিস্টার আসিফ বলেন, আমরা বলতে চাই— ইভানার মৃত্যু এমনি এমনি হয়নি। তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আরেকজন নারী আইনজীবীর সঙ্গে ইভানার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি সবাই জানত। তার শ্বশুর-শাশুড়ি চাইতেন যে ইভানা সরে গেলে ওই নারীকে বউ করে ঘরে আনবেন। তাদের সবাই-ই ইভানার মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণেই আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ইভানার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আবেদন জানাই।

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশ ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পরীবাগের দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। পরে ইভানার চাচাতো ভাই থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস আলী বলেন, ইভানার মরদেহ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাশে দেখিনি। তাদের বিন্দুমাত্র অনুভূতি মেই। এমনকি স্বামী পর্যন্ত থানায় আসেনি। ফোন করেও কোনো খোঁজখবর নেননি। বিষয়টি দুঃখজনক।

বিজ্ঞাপন

ইভানার জন্য বন্ধু-সহকর্মীরা কালো ব্যাজ পরে থানায়

পরে ওসি মওদুদ হাওলাদার থানায় এলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইনজীবীসহ ইভানার বন্ধু-সহকর্মীদের পক্ষ থেকে নিয়ে আসা আবেদনটি গ্রহণ করা হয়। ওসি বলেন, তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত আবেদনটি আমরা তদন্তের স্বার্থে আমলে নেব। ইভানার মৃত্যুর পেছনে যদি অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে আমরা সে বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থাও নেব। সেক্ষেত্রে অপমৃত্যুর মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপান্তরিত হবে।

ইভানা লায়লা চৌধুরী স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি উত্তরা ও মিরপুর শাখার স্কলাস্টিকা স্কুলের ইউনিভার্সিটি প্লেসমেন্ট সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব করতেন। ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসানের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তানের জননী ছিলেন তিনি।

ইভানার পরিবারের অভিযোগ, ইভানার স্বামী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মাহমুদ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ইভানা বছরখানেক আগেই বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে নিগ্রহের শিকার হন ইভানা। এছাড়া ইভানাকে তার স্বামী নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাইয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, এক বছর ধরে বয়ে চলা মানসিক যন্ত্রণা, ডিভোর্সের হুমকি, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের পাশাপাশি ঘুমের ওষুধ ইভানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন