বিজ্ঞাপন

সমীক্ষা ছাড়াই বিদ্যুতের ২৩৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

September 27, 2021 | 11:34 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আলাদা সমীক্ষা ছাড়াই প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুতের ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প। এটি তৈরি বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য ব্যবহার করায় নতুন করে সমীক্ষার সুপারিশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

‘ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সস্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা।

প্রকল্পটি নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। গত ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পিইসি সভায় ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কাওসার আমিন বলেন, ‘ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধির কারণে ডেসকো এলাকাভুক্ত উপকেন্দ্র এবং বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ওভারলোডেড অবস্থায় আছে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লো-ভোল্টেজ এবং সিস্টেম লসের পাশাপাশি নতুন গ্রাহকগণকে মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে সমস্যা হচ্ছে। গ্রাহকগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন গ্রিড ও বিতরণ উপকেন্দ্র এবং লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ডেসকোর বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণের জন্য প্রকল্পটি এশীয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেড বিডি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৫৭ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজেস্ব তহবিল থেকে ৪৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২২ সালের জানুয়ারি হতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মধ্যে এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পিইসি সভায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম প্রধান ছায়েদুজ্জামান বলেন, ‘এই প্রকল্পটির জন্য ডেসকো পৃথক কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করেনি। ডেসকোর মাস্টার প্ল্যান ২০৩০ এর বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে কোন কোন বিকল্প পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি কারিগরি এবং অর্থনৈতিক লাভজনক দেখানো হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হালনাগাদ করে এনইসি একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ প্রণীত ফরম্যাট উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যুক্ত করা প্রয়োজন।’

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় ৩৩ কেভি এবং ১১ কেভি ক্ষমতার যথাক্রমে ৫০ ও ১০০ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ লাইন স্থাপন করা হবে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শহর এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ লাইন স্থাপন করা হবে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শহর এলাকায় ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এ জন্য সিটি করপোরেশন পৌরসভা এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ লাইন নির্মাণে প্রস্তাবিত রুটে রাস্তা খননের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোতি নেওয়া হয়েছে কিনা তা সভায় জানাতে অনুরোধ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক মনছুরুল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে এরইমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্য রুটের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। তবে অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ জন্য প্রস্তাবিত রুটে ভূ-গর্ভস্থ লাইন নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় এয়ারপোর্ট এলাকায় ৮টি স্থানে নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।’

প্রকল্পটির অর্থায়নে এডিবি ১৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বলে সভায় জানান ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব মাসুদা বেগম বলেন, ‘প্রকল্পটি এডিবির পাইপলাইনভুক্ত হলেও এর অর্থায়নের জন্য এডিবির সঙ্গে এখনও কোনো ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। একইসঙ্গে প্রকল্পের অর্থায়নে এডিবি প্রাইভেট ফিন্যান্সিং প্রস্তাব করেছে এবং এ বিষয়ে ডেসকোর মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রাইভেট ফিন্যান্সিং অন্তর্ভুক্ত হলে সুদের হার পরিবর্তনসহ এমটাইজেশন শিডিউল, আর্থিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে।’

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান ছায়েদুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদিত প্রকল্প, চলমান অর্থ বছরে এডিপি নতুন কোনো প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত এডিপির অতিরিক্ত বরাদ্দ দিলে এমটিবিএফের সীমা অতিক্রম হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকল্প ব্যয়, এডিপি বরাদ্দ এবং এমটিবিএফের সীমা বিবেচনা নিয়ে এমটিবিএফ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রত্যয়ন করে প্রকল্প প্রস্তাবে যুক্ত করার জন্য সভায় সবাই একমত।’

সভার সুপারিশে বলা হয়েছে— প্রকল্পের কার্যপরিধি বিবেচনায় নিয়ে একটি পৃথক এবং হালনাগাদ সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা করতে হবে। সমীক্ষাটি এনইসি একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ প্রণীত ফরম্যাটে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়নে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা এডিবির ঋণের পরিমাণ ও শর্তাবলি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে ঋণ শর্ত অর্থায়নের ধরন পরিবর্তন হলে দ্বিতীয় পিইসি সভা করা হবে। এ জন্য ডিপিপি পুনর্গঠন করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের গত বছরের ৩ ডিসেম্বর জারিকরা পরিপত্র অনুসারে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় অনুসারে যানবাহন ক্রয় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া গেলে যানবাহন ক্রয়ের ব্যয় সীমা অনসরণ করে ব্যয় প্রাক্কলন করা যেতে পারে। প্রকল্পের কার্যপরিধি বিচেনায় নিয়ে একটি কার, দুইটি ডাবল কেবিন পিক-আপ এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ক্রয় করা যেতে পারে।

সারাবাংলা/জেজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন