বিজ্ঞাপন

‘প্রশাসনে অসংখ্য পাকিস্তানি আছে’

October 18, 2021 | 8:26 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, বাংলাদেশ আজ এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, প্রশাসনে-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাঙালি যেমন আছেন, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে। আর আওয়ামী লীগের ভেতরে আছে অসংখ্য খন্দকার মোশতাক।

বিজ্ঞাপন

দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ‘সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর চেরাগি পাহাড় মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, তখন আমাদের সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধের জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। বর্তমানে যে দল রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, এই দলের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আমরা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমরা যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আজকের দিনে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, কিন্তু এই দল সেই বঙ্গবন্ধুর দল নয়।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আজ দেশ এমন জায়গায় আছে যেখানে সংবিধানে বাংলাদেশও আছে, পাকিস্তানও আছে। সংবিধানে বঙ্গবন্ধুও আছেন, জিন্নাহ সাহেবও আছেন। আমাদের প্রশাসনে আছে পাকিস্তান। দলের (আওয়ামী লীগ) ভেতরে অসংখ্য খন্দকার মোশতাক আছে। বিগত ১০ বছরে আমরা লক্ষ্য করেছি, এই সরকারের আমলে যে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো হয়েছে, এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জড়িত। এছাড়া যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার-দখলদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে হিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করতে ভূমিকা পালন করেছে, তাদের প্রেতাত্মারা যেমন আছে, তেমনি মুজিবকোট গায়ে দিয়ে এই সরকারি দলের কেউ কেউ- তারাও কিন্তু তাদের সঙ্গে মেলবন্ধন করে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো চালিয়েছে।’

প্রসঙ্গক্রমে চট্টগ্রামে একটি পূজামণ্ডপে হামলার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জেলেপাড়ায় সার্বজনীন পূজামণ্ডপে আক্রমণ করেছে জয় বাংলা ক্লাবের সদস্যরা। হামলাকারী দুই ভাই কিছুদিন আগেও বিএনপিতে ছিল, বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগদান করে জয় বাংলা ক্লাবের নেতৃত্বে এসেছে। তাদের সাথে ইলিয়াছ মেম্বার নামে একজনও পূজামণ্ডপে আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে। একটি পূজামণ্ডপের যখন এই অবস্থা, তখন সারা বাংলাদেশের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি কি হয়েছে, সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।’

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রদায়িকতা তৃণমূলে ছড়িয়ে গেছে- এমন মন্তব্য করে মানবাধিকার সংগঠক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, প্রশাসনে বলেন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বলেন- এখানে বাংলাদেশি বাঙালিও যেমন আছেন, তেমনি অসংখ্য পাকিস্তানিও আছেন। যে কারণে আমাদের কাছে মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর অনেক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হতভাগ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। যে পরিস্থিতিতে আজকের বাংলাদেশ এসে দাঁড়িয়েছে, একটি-দুটি সমাবেশ করে সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধ করা যাবে, এটা আমরা মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের কথা বলেন, সব রাজনৈতিক দল এবং দেশপ্রেমিক জনগণ, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলামা, পুরোহিত-যাজক- সমস্ত নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের পাশে দাঁড়াতে না পারলে, প্রতিরোধের কথা শুধু কথাই থেকে যাবে। কথা শুধু কথার মধ্যে থেকে গেলে ভবিষ্যতের বিপর্যয় রোধ করা যাবে না। আমরা পঁচাত্তরের পরে বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেখেছি, আরেকটি বিপর্যয় বাংলাদেশকে যাতে আফগানিস্তানের দিকে ঠেলে না দেয়, তার জন্য এখন থেকে সজাগ, সতর্ক ও সচেতন করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ‘ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের জনজীবনের যে সমস্যা, সেটার মূলে হচ্ছে সংবিধান। এই সংবিধান আমাদের রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘু করে রাখতে চায়। রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘু হয়ে থাকার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের দুই কোটি মানুষকে বিপর্যয়ের মধ্যে রেখে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে না। উপমহাদেশের সামনে বরং বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।’

আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেন, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার মজুমদার, নারীনেত্রী নুরজাহান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনূস, কবি কামরুল হাসান বাদল, জাসদ নেতা জসীম উদ্দিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ওয়াকার্স পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, মহিলা পরিষদের লায়লা কবীর, সিপিবি নেতা সেহাবউদ্দিন সাইফু, সঙ্গীতশিল্পী কল্পনা লালা ও শ্রেয়সী রায়, নাট্যজন আশীষ নন্দী, ম সাইফুল আলম চৌধুরী, সঞ্জীব বড়ুয়া, বাসদ নেতা মাহিন উদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের হাসান মারুফ রুমী এবং ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন