বিজ্ঞাপন

সেন্সর বোর্ডের কাছে চার দফা দাবি ‘বীর’ ছবির শিল্প নির্দেশকের

October 19, 2021 | 7:36 pm

আহমেদ জামান শিমুল

ঢাকা: ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা পড়া ‘বীর’ ছবির আবেদন পত্রে শিল্প নির্দেশক হিসেবে নাম জমা পড়েছে ফরিদ আহমেদের। অথচ কাজটি করেছেন মো. জহিরুল ইসলাম দীপু। এ নিয়ে সারাবাংলায় ইতোমধ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দীপু ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তা প্রতিরোধে সেন্সর বোর্ডের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারক লিপিটি প্রদান করেন দীপু। একই স্মারক লিপি তিনি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০’-এর জুরি বোর্ডের কাছেও জমা দিয়েছেন। এফডিসির এমডি, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি এবং পরিচালক সমিতির সভাপতি বরাবরও স্মারক লিপিটি দিবেন বলে জানালেন।

স্মারক লিপির শুরুতে দীপুর ‘বীর’ ছবির শিল্প নির্দেশনা নিয়ে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর ভবিষ্যতে যাতে আর কারো সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা না ঘটতে পারে তার জন্য চার দফা দাবি উত্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

দীপুর দাবিগুলো হচ্ছে:

১. পুরস্কারের জন্য যে সকল কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় তার সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সরবরাহকৃত ফরমে শিল্পী বা কলাকুশলীদের সাথে প্রযোজকদের সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

২. কোনো ক্যাটাগরিতে একাধিক নাম জমা পড়লে তাদের একসাথে কাজ করার সম্মতিপত্রের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৩. কোনো ক্যাটাগরিতে যদি কোনো শিল্পী বা কলাকুশলীর নাম প্রস্তাব না করা হয় তাহলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। এতে প্রকৃত কলাকুশলীদের বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ কমবে।

বিজ্ঞাপন

৪. যদি কোনো ক্যাটাগরিতে বিদেশি কলাকুশলী কাজ করে সেক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরিতে প্রস্তাব করার সুযোগ না রাখা। এর ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে।

দাবিগুলোর বিভিন্ন দফার ব্যাখ্যায় দীপু সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা প্রথম না। এর আগেও অনেকের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে নৃত্য পরিচালক হাবিব পুরস্কার প্রত্যাখান করেছেন। কারণ ওই ছবিতে প্রকৃত প্রস্তাবে মুম্বাইয়ের নৃত্য পরিচালক কাজ করেছেন। আবার গত বছর (২০১৯) নৃত্যে ইভান শাহরিয়ার সোহাগ যে পুরস্কার পেলেন তা কিন্তু উনি পরিচালনা করেননি। করেছেন বিদেশি একজন। এ জন্য আমি চুক্তিপত্রের কথা বলেছি। আর এ চুক্তিপত্র প্রযোজনা সংস্থার নিজস্ব হলে হবে না, এটা যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানে প্রযোজক সমিতি কিংবা এফডিসি কর্তৃক সরাবরহকৃত ফরমে হতে হবে। ফরমের নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর থাকতে হবে। এতে করে টেকনিশিয়ানরা তাদের যোগ্য সম্মানটা অন্তত পাবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “আবার গত বছর (২০১৯) বাসু ভাইয়ের (মো. রহমত উল্লা বাসু) সঙ্গে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির জন্য যৌথভাবে ‘শিল্প নির্দেশনা’য় পুরস্কার পেলেন ফরিদ আহমেদ। অথচ ফরিদের নাম যে শিল্প নির্দেশক হিসেবে টাইটেলে দেয়া হয়েছে এটা বাসু ভাই জানতেন না। জেনেছেন ছবি মুক্তির পর। এর জন্য আমি বলেছি, একাধিক নামের ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করার সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে।’

‘আবার দেখা গেলো কাজ করতে গিয়ে প্রযোজক বা পরিচালকের সঙ্গে কোন সমস্যা তৈরি হলো। এতে করে প্রযোজনা সংস্থা তার নাম পুরস্কারে জমা দেয় না। তাতে করে কিন্তু ওই মানুষটা তার প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়। এটা যাতে না হয় তার জন্য আমি বলেছি কোনো ক্যাটাগরিতে পুরস্কার না চাইলে তার যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে’,— তিন নম্বর দাবির ব্যাখ্যায় বলেন দীপু।

দীপুর মতে এ জিনিসগুলো করা হলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে যে বিতর্কগুলো প্রতি বছর হয়, সেগুলো অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে একজন টেকনিশিয়ান বা শিল্পী তার কাজের সঠিক মূল্যায়নটা পাবেন।

সেন্সর বোর্ডের একটি অফিসিয়াল সূত্র দীপুর স্মারক লিপি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। অবশ্য বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দিন এখনও স্মারক লিপি পাননি বলে জানান।

বোর্ড ভাইস চেয়ারম্যান সারাবাংলাকে বলেন, ‘দাবি উনি জানাতেই পারেন। তবে তা তিনি তথ্য সচিব বরাবর করলে ভালো হয়। কারণ এ ধরনের বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় থেকেই বিবেচনার সুযোগ আছে। আমাদের এখান থেকে আসলে খুব একটা সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ‘বীর’ ছবির শিল্প নির্দেশক নিয়ে বিতর্ক

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন