বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে’

October 19, 2021 | 11:07 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশের সব মানুষ তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এত রক্ত ক্ষয়, এত কিছু বাংলাদেশে ঘটে গেছে যে, আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সংবিধানে সব মানুষকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংবিধানেও সেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। ইসলাম ধর্মও সেই কথাই বলে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কাজেই সেই বাড়াবাড়ি কেউ যেন না করে, সেটাও আমরা চাই। এই দেশের সব মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিজ্ঞাপন

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার খুনিদের প্রতি এই যে পক্ষপাতিত্ব এটার কারণটা কি? কারণটা খুব স্পষ্ট। কারণ খুনি মোস্তাকের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই রাসেলকে সর্বশেষে হত্যা করা হয়। বলা হয়েছিল, ওই ছোট্ট টুকুও যেন না বাঁচে। এই নির্দেশটা কে দিয়েছিল? কারা দিয়েছিল? সব থেকে এটাই কষ্টের।’

তিনি বলেন, ‘এইদিকে চাচার লাশ, ওইদিকে কামালের লাশ, আব্বার লাশ, মায়ের লাশ। সব মাড়িয়ে ওপরে নিয়ে তাকে সবার শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে। অথচ রাসেল ছোটবেলা থেকে সহজ-সরল ছিল। তার জীবনের কোনো দাবি ছিল না। একটাই স্বপ্ন ছিল, সেনা কর্মকর্তা হবে।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার আইন তো জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে করে দিয়ে গেছেন। প্রাথমিক শিক্ষাটাকে অবৈতনিক করে দিয়ে গেছেন, বাধ্যতামূলক করে দিয়ে গেছেন। আমার বাবার আদর্শ নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই দেশের শিশুরা যেন আর এই নির্মমতার শিকার না হয়।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এখনও আমরা সেই নির্মমতা দেখি। খালেদা জিয়া বিরোধী দলে থাকতে অগ্নিসন্ত্রাস করে চলন্ত বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। বাপ দেখেছে, নিজের চোখের সামনে আগুন পুড়ে সন্তান মারা যাচ্ছে। সেরকম নিষ্ঠুর ঘটনা তো বাংলাদেশে ঘটেছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুর্ভাগ্য এই বাংলাদেশের।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানবতার প্রশ্ন তোলেন, তারা যেন এই ঘটনাগুলো ভালোভাবে দেখেন যে, বাংলাদেশে কী ঘটল। আমরা সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা যে, কোনো শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না, টোকাই থাকবে না। তাদের যেন একটা ঠিকানা থাকে, তারা যেন একটু ভালোভাবে বসবাস করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য, এই দেশের গৃহহীন প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে। প্রতিটি মানুষ শিক্ষা পাবে, চিকিৎসা পাবে, ভালোভাবে বাঁচবে। প্রতিটি শিশুর তার মেধা, জ্ঞান ও বুদ্ধি যেন বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ কে তারা যেন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেই চেষ্টাই আমি করে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে না বলে দেশে আইন হয়েছিল- বিষয়টি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্বে অনেকেই মানবাধিকারের কথা তোলেন। আমাকে অনেক সময় মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেন। তখন আমার মনে হয় যে, একবার তাদের জিজ্ঞেস করি, তাদের কি অধিকার আছে এই প্রশ্ন করার? যেখানে আমার বাবা, মা, ভাইদের হত্যার বিচার চাইতে পারিনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরে এই দেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে। আমি জানি বিএনপির অনেক নেতা বা বিএনপিতে আগে ছিল তারা দাবি করেন যে, জিয়াউর রহমানের হাতে নাকি সেনাবাহিনী খুব নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল এবং শক্তিশালী হয়েছে। আমার প্রশ্ন, ১৯৭৫ সাল থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত ১৯টা ক্যু হলে সেই দেশে সেনাবাহিনী শক্তিশালী ও নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে- এই দাবি করে কোন মুখে? এই কথা বলেই বা কোন মুখে?’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে জড়িত তাই নয়। সেতো হাজার হাজার সেনাবাহিনীর সৈনিক ও কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে।’

শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাসেল আমাদের সবার ছোট। ৬৪ সালে জন্ম। বেঁচে থাকলে এখন ৫৭ বছর বয়স হতো। কিন্তু মাত্র ১০ বছরে বয়সে তাকে হারিয়ে যেতে হলো ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে। আমার হাত ধরেই কিন্তু রাসেল হাঁটা শেখে। আমরা পাঁচটা ভাই-বোন ছিলাম। সে আমাদের চার জনের অত্যন্ত আদরের।‘

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন