বিজ্ঞাপন

করণীয় নির্ধারণে আদেশের কপির অপেক্ষায় ইভ্যালি পরিচালনা বোর্ড

October 20, 2021 | 10:56 am

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বোর্ডটি কীভাবে কাজ করবে, গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে কী ব্যবস্থা নেবে— এসব বিষয়ে প্রশ্ন এখন সবার। তবে বোর্ড সদস্যরা বলছেন, হাইকোর্টের আদেশ এখনো হাতে পাননি তারা। আদেশ হাতে পাওয়ার পর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। আদেশ অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে তাদের পরবর্তী কর্মপন্থা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইভ্যালির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষের আইনজীবী এ এম মাসুম জানিয়েছেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির জন্য গঠিত এই পরিচালনা বোর্ড প্রথমেই প্রতিষ্ঠানটিতে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুই কর্ণধার কারাবন্দি থাকার প্রেক্ষাপটে সোমবার (১৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির জন্য পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে। বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন— সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ওএসডি থাকা অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ইভ্যালি পরিচালনায় ৫ সদস্যের কমিটি

ইভ্যালি পরিচালনায় এই বোর্ড কীভাবে কাজ করবে— জানতে চাইলে বোর্ড প্রধান শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাজ কী হবে, সেটি এখনো জানি না। কারণ হাইকোর্টের আদেশ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। পত্র-পত্রিকায় দেখেছি আমাদের নিয়ে কমিটি হয়েছে। এর বাইরে কিছু জানি না।’

বিজ্ঞাপন

সাবেক এই বিচারপতি বলেন, ‘এই কমিটিতে আরও অনেকেই আছেন। তাদের সঙ্গে বসে সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনার আলোকে আমরা কাজ করব। আদেশ হাতে পেলেই কাজের পরিধি সম্পর্কে জানা যাবে।’

জানতে চাইলে ইভ্যালির অন্তবর্তীকালীন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আদালতের আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেতে দুই-তিন দিন লাগবে। তারপর ইভ্যালির অফিস কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে— আমরা এগুলো দেখব। আগে আমরা যাই। কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করি। তারপর আমাদের কর্মপদ্ধতি কী হবে, তা ঠিক করা হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের পরবর্তী কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ১২ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ইভ্যালির দায়দেনা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের লক্ষ্যে কমিটি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম মাসুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, প্রতিযোগিতা কমিশন, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের (আরজেএসসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

করণীয় নির্ধারণে আদেশের কপির অপেক্ষায় ইভ্যালি পরিচালনা বোর্ড

ইভ্যালির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের আইনজীবী এ এম মাসুম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গঠিত নতুন এই বোর্ড শুরুতেই ইভ্যালির অবস্থা নিয়ে নিরীক্ষা বা অডিট করবে। প্রতিষ্ঠানটির দায়-দেনার সঠিক পরিমাণ, ভোক্তাদের পাওনা, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সম্পদ এবং সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কী অবস্থায় আছে, তার একটি খতিয়ান তৈরি করবে।

এই আইনজীবী জানান, ইভ্যালির কী পরিমাণ দায়-দেনা আছে, সেগুলো কীভাবে পরিশোধ করা যাবে, প্রতিষ্ঠানটি আদৌ আর পরিচালনা করা সম্ভব হবে কি না— অডিটের পর এসব বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। কোম্পানিটি পরিচালনা করা সম্ভব হলে এই বোর্ড সেটি পরিচালনা করবে। আর পরিচালনা করা সম্ভব না হলে কোম্পানিটি অবসায়ন করে দেওয়া হবে।

আইনজীবী এ এম মাসুম বলেন, ইভ্যালির নিয়মিত কার্যক্রম এই বোর্ড পরিচালনা করবে, বাৎসরিক সভাও করবে এই বোর্ড। ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় কোম্পানিটি পরিচালনার জন্য যা যা করণীয়, তার সবই এই বোর্ড করবে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করা ইভ্যালি আকর্ষণীয় সব অফার দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অফারের ঘোষণা অনুযায়ী যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ না করা ও রিফান্ড নিয়ে অনিয়মসহ বেশকিছু অভিযোগ উঠতে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে ইভ্যালি নিয়ে বলা হয়, এ বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করেনি। আবার মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দেনার পরিমাণ ১৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইভ্যালির চলতি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। ইভ্যালির প্রকৃত দায়-দেনার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে। ইভ্যালির কাছে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তও চেয়ে পাঠায়। একাধিকবার সময় নিয়ে ইভ্যালি যেসব হিসাব জমা দেয়, সেগুলোতে ব্যাপক গরমিলের নজির পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন একজন ভুক্তভোগী। ঢাকার বাইরেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বেশকিছু মামলা হয়। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সিইও রাসেলের বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। পরে সেখান থেকে তিনি ও চেয়ারম্যান শামীমা গ্রেফতার হন। বর্তমানে তারা দু’জনেই কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। ইভ্যালির নথিপত্রও তলব করা হয় আদালতে। সবশেষ সোমবার আদালত প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৫ সদস্যের বোর্ডটি গঠন করে দিয়েছেন।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন