বিজ্ঞাপন

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে দীপাবলির উৎসব বর্জনের ঘোষণা

October 22, 2021 | 9:30 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আগামী ৪ নভেম্বর শ্যামাপূজায় দীপাবলির উৎসব বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। উৎসব বর্জন করলেও শ্যামাপূজা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি জানান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি।

শারদীয় দুর্গাপূজায় ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নারকীয় তাণ্ডব’ ও ‘বিরাজমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতা’র কারণে শ্যামাপূজা উৎসব বর্জনসহ চার দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘শ্যামাপূজা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে- অনেকে এমন গুজব ছড়াচ্ছে; এটি সত্য নয়। আমরা পূজা করব, সবাই পূজা করবে। এ জন্য আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, যার যেখানে, যেভাবে সম্ভব সেভাবে পূজা করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘শ্যামা পূজায় একাধিক দিনের অনুষ্ঠান পরিহার করা হবে। পাশাপাশি সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৫ মিনিট কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে দর্শনার্থী ও ভক্তরা স্ব স্ব মন্দিরে নীরবতা পালন করবে।’

বিজ্ঞাপন

পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে চারটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির বাড়িঘর সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে। গৃহহীনদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত দোষীদের বিচারের পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ক্ষেত্রেই নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে পরিষদ দাবি করেছে- তদন্ত কমিশনের প্রকাশিত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘হিন্দু ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে তা প্রতিবিধানে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য ও পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের’ দাবিও করে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিকদের দলগুলোর পাল্টাপাল্টি দোষারোপের সংস্কৃতি পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটা‌র্জি বলছেন, ‘কোনো একটি ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক দোষারোপ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রধান হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক দোষারোপের কারণে প্রকৃত দোষীরাও পার পেয়ে যাচ্ছে।’

লিখিত বক্তব্যে নির্মল চ্যাটা‌র্জি জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার একটিরও ‘সুষ্ঠু বিচার’ হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। এসময় সহিংসতার কয়েকটি বিষয় তুলে ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা নানুয়া দীঘিরপাড়ের মণ্ডপটি অস্থায়ী। ঘটনার রাতে মণ্ডপে মাত্র একজন পাহারায় ছিল। রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’

নির্মল চ্যাটার্জি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কী কারণে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সেই বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে কি? থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হনুমান মূর্তির কোলের ওপর রাখা পবিত্র কোরআন শরিফটি সরিয়ে নেওয়ার পর কেন ভিডিও করার সুযোগ করে দিলেন এবং কেন সে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।’

এমনকি চৌমুহনীতে বেলা ১১টার মধ্যে সব পূজা মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ার পরও যখন হামলা শুরু হয়, তখন পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে জানান নির্মল চ্যাটার্জি।

এ সময় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হামলা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন সময়োযোগী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী সারাবাংলাকে জানান, ‘আমরা শ্যামা পূজা করব তবে দীপাবলির যে উৎসব আছে সেটি করব না। দেশের অনেক স্থানে আমাদের মন্দির ভেঙে দিয়েছে আপনারা জানেন। ওইসব মন্দির কমিটিকে বলেছি, শ্যামাপূজা কাছে, হামলা করে প্রতীমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই নিয়ম মেনে শুধু ঘট বসিয়ে যেন পূজা করা হয়। তবে কোনো উৎসব হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ, পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন, মহানগরের উদযাপন পরিষদের মহানগর কমিটির সভাপতি শৈলেন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর মণ্ডলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/জেআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন