বিজ্ঞাপন

দেড় যুগ ধরে চিকিৎসক ছাড়াই চলছে ভৈরব রেলওয়ে হাসপাতাল

October 28, 2021 | 8:05 am

এম.এ হালিম, লোকাল করেসপন্ডেন্ট

ভৈরব: যেকোনো হাসপাতালের অপরিহার্য ব্যক্তি হচ্ছেন চিকিৎসক। চিকিৎসক ছাড়া কোনো হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চলতে পারে, সেকথা বিশ্বাস করার মতো মানুষ খুব কমই আছেন। তবে এমনই এক অস্বাভাবিক অবস্থায় চলছে ভৈরব রেলওয়ে হাসপাতাল, যেখানে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নেই কোনো চিকিৎসক। ১৯৯১ সালে চিকিৎসক পদটিই বিলুপ্ত করে দেওয়ায় শুধু নামেই রয়েছে হাসপাতালটির অস্তিত্ব ।

বিজ্ঞাপন

শুধু চিকিৎসকই নয়, ওয়ার্ড বয় ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় রেলওয়েতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দুর্ঘটনায় আহত ট্রেনের যাত্রীরা পাচ্ছেন না কাঙ্খিত সেবা। চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগে বার বার লিখিত আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সবাই। এজন্য হাসপাতালটিতে দ্রুত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রেলওয়েতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ ট্রেন যাত্রীদের।

জানা যায়, ১৯৬৬ সালের দিকে ভৈরবে সাধারণ ট্রেনযাত্রী ও রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে শহরের চন্ডিবের ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দুটি হাসপাতাল গড়ে উঠে। পরে ১৯৮৮ সালে রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম, খেলার মাঠ, স্কুলসহ অনেক বাসাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিলীনের পর চন্ডিবের হাসপাতালটিতে ১৯৯১ সালের দিকে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। পরে স্টেশন এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু রাখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । কিন্ত শুরু থেকে হাসপাতালটিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু থাকলেও ১৯৯১ সালে চিকিৎসক পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ। পরে ১৯৯৬ সালে হাসপাতালটিতে এমবিবিএস ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ডিও লেটার দেয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এরপর বর্তমান এমপি নাজমুল হাসান পাপন ২০১২ সালের দিকে ফের ডিও লেটার দেয় । কিন্ত বারবার ডিও লেটার ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি ।

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী রেলওয়ে হাসপাতালে ফার্মাসিস্টের দায়িত্বে থাকা মো. কামরুজ্জামান ভৈরবে রেলওয়ে হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে ১ দিন আসেন ,আবার মাঝে মাঝে আসেন না। এছাড়া দীর্ঘ ৬ বছর ধরে একজন ওয়ার্ড অ্যাটেন্ডডেন্ট পর্যন্ত নেই। ফলে একজন মেডিসিন কেয়ার দিয়ে কোনো রকমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে নামে মাত্র চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। যদিও হাসপাতালটিতে একজন চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিসিন কেয়ার, দুইজন ওয়ার্ড অ্যাটেন্ডডেন্ট, একজন ডিসপেনসারি কেয়ার, একজন চৌকিদার থাকার কথা।

এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোনের ভৈরব বাজার ঘাটের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জীষাণ দত্ত জানান, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি প্রাক্কলন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি পাশ হলে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ট্রেন যাত্রীদের চিকিৎসা সেবা ত্বরান্বিত হবে ।

বিজ্ঞাপন

ভৈরব রেলওয়ে হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত ফার্মাসিস্ট মো. কামরুজ্জামান সকল অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক নেই দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়। হাসপাতালের ভবনটিও জরীজীর্ণ। আমি নিজেও সময়মত থাকতে পারি না। হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও স্বায়ীভাবে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা হলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সহজ হবে এবং সেবার মান বাড়বে।

ভৈরব রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান বুকিং সহকারি কিশোর নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালের দিকে চিকিৎসক পদ বিলুপ্ত হয়। এর আগে সার্জন ও সহকারী সার্জন পদ বিলুপ্ত করা হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। দ্রুত হাসপাতালটিতে চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানাই।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন