বিজ্ঞাপন

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: ওসিসহ ৫ জনকে বরখাস্তের নির্দেশ

October 28, 2021 | 5:28 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নিজ ঘরে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে থানার তৎকালীন ওসি, এসআই, এএসআই, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং চৌকিদারকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

ওসি কামরুজ্জামান ছাড়া অন্যরা হলেন- উপপিরদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান, সহকারী উপপিরদর্শক (এএসআই) মফিজুল ইসলাম, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ ও চৌকিদার আলী আসগর।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো.কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নিজ ঘরে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাটি আদালতের নজরে আনায়ানকারী আইনজীবীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আদালত। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অনীক আর হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি, একজন এসআই ও এএসআইকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আদালত স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গ্রাম পুলিশকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এলজিআরডি সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এর আগে, গত বছরের ৫ অক্টোবর ঘটনাটি আদালতের নজরে আনার পর ভিডিও ফুটেজ সরাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সিডি বা পেনড্রাইভে কপি রেখে ভিডিও ফুটেজ সরাতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে ওই নারীর পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের বক্তব্য গ্রহণে পুলিশের কোনো অবহেলা আছে কিনা তা অনুসন্ধান করতে একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন আদালত। কমিটিকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে কমিটির প্রধান ছিলেন চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.আবুল বাশার। সদস্য ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসরাত সাদমীন এবং জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

ওই কমিটি আদালতে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে অবহেলা পাওয়ায় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় চৌকিদারের বিষয়ে আদালত যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে বলে মত দিয়েছিলেন তদন্ত কমিটি।

এরপর এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রায় দেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর সঙ্গে তার আগের স্বামী দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে আসেন। বিষয়টি দেখে ফেলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ারের লোকজন ওই নারীর ঘরে ঢুকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়।

পরে এ ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। এছাড়া ওই নারীকে বিবস্ত্র ও নির্যাতনের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা বিচারিক আদালতে চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: 
গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: দেলোয়ার ও বাদল গ্রেফতার 
বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নির্যাতন: গ্রেফতার ২ আসামি ছয় দিনের রিমান্ড
শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় বেগমগঞ্জের গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি: র‌্যাব
বেগমগঞ্জের ওই নারীর ভিডিও অপসারণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের

সারাবাংলা/কেআইএফ/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন