বিজ্ঞাপন

অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের সিদ্ধান্ত এক মাসের আগেই বাতিল!

October 28, 2021 | 7:43 pm

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অবৈধ বা আন-অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। ফলে আপাতত কোনো অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ হচ্ছে না। এর আগে, অবৈধভাবে দেশের বাইরে থেকে আনা হ্যান্ডেসেট বন্ধের সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। সেই ভোগান্তি লাঘব করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

দেশের বাজারে অবৈধভাবে মোবাইল ফোনের আমদানি বন্ধ, মোবাইল চুরি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)’ প্রযুক্তি চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশিন (বিটিআরসি)। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চলেছে এই প্রযুক্তির কার্যক্রম।

বিটিআরসি জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে দেশের নেটওয়ার্কে নতুন করে আর কোনো অবৈধ মোবাইল ফোন সচল হবে না। সে লক্ষ্যে বেশকিছু অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানায় বিটিআরসি। তবে দেশের বাইরে থেকে নিয়ে আসা হ্যান্ডসেট নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন প্রবাসী ও বিদেশ ফেরতরা। সেই ভোগান্তি কমাতেই অবৈধ বা আন-অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সারাবাংলাকে বলেন, কোন সেট বৈধ বা অবৈধ— তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। তাৎক্ষণিভাবে হ্যান্ডসেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছে। তাই আপাতত মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের সিদ্ধান্ত এক মাসের আগেই বাতিল!

মন্ত্রী বলেন, আমাদের এনইআইআর সিস্টেম চালু আছে। এর মাধ্যমে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে। মূল লক্ষ্যই ছিল একটি ডাটাবেজ তৈরি করা। গণহারে মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা ভালোভাবে নেননি। গ্রাহক যেন ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই বিটিআরসি মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। যদি এনবিআর কোনো তালিকা দেয় যে এগুলো অবৈধ হ্যান্ডসেট, তাহলে বিটিআরসি সেই হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধ করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র সারাবাংলাকে বলেন, বৈধ-অবৈধ সব হ্যান্ডসেট এখন চালু থাকবে। কোনো হ্যান্ডসেটই আর বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের সিস্টেমে বৈধ ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের তথ্য থাকবে। ডাটাবেজে সব তথ্য থাকবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা এনবিআর চাইলে আমরা সেই তথ্য তাদের সরবরাহ করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে সুব্রত রায় বলেন, আমাদের দেশের গ্রাহকদের ডিজিটাল লিটারেসি খুব একটা নেই। এ কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। গ্রাহকের যেন ভোগান্তি না হয়, সে কারণেই হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সব হ্যান্ডসেটের তথ্য আমাদের ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিটিআরসির কমিশনার এ কে এম শহীদুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের এনইআইআর সিস্টেম চালু আছে। সেখানে রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে। দেশ থেকে কেনা সব হ্যান্ডসেটই অটোরেজিস্ট্রেশন হয়ে যাচ্ছে। আপাতত কোনো ফোন বন্ধ হচ্ছে না। সিম দিয়ে অন করলেই চালু হবে।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ আসে। তাদের সবাই কম-বেশি হ্যান্ডসেট নিয়ে আসেন। সেই সেটগুলো নিবন্ধন করতে গ্রাহকরা বিড়ম্বনায় পড়ছিলেন। সরকার মনে করেছে, আপাতত কোনো সেট বন্ধ করা সমীচীন হবে না। তাই আপাতত দেশের বাইরে থেকে আনা বা অবৈধ উপায়ে আসা কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ উপায়ে আসা হ্যান্ডেসেটগুলো কীভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। তা নিয়ে এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, বিশ্বের কোথাও সেই অর্থে এনইআইআর সিস্টেম নেই। দু’টি দেশে চালু হলেও সেখানে সফল হয়নি। দেশেও যে সিস্টেমটি চালু করা হয়েছি তার ওয়েবসাইটে গিয়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন করা যাচ্ছিল না। ডিজিটাল পদ্ধতির নিবন্ধন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হতে পারে না। এতে গ্রাহক ভোগান্তি তৈরি হয়। সে কারণে সরকার হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। সে কারণে রাষ্ট্রের টাকার অপচয় হয়েছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন