বিজ্ঞাপন

প্রচারণা শুরু হতেই আ. লীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর অফিস ভাঙচুর

October 28, 2021 | 9:44 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের প্রথম রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোহা. তোফিজুল ইসলাম ও স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান সোহরাবের একই মোড়ে থাকা দুটি অফিস ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর দুই প্রার্থীর সমর্থমকদের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনা জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন দুই প্রার্থী। নৌকা মনোনীত প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করলেও আনারস প্রার্থী মৌখিক অভিযোগ করেন। দুই প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ড নওদা-আদিবাসী পাড়ায় এ ভাংচুর চালানো হয়। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বুধবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উদ্বোধন করা দুটি অস্থায়ী অফিসের সামনে পোস্টার, ব্যানার ও দড়ি ছিড়ে ফেলা হয়।

বিজ্ঞাপন

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহা. তোফিজুল ইসলাম বলেন, রাত ৩টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অফিস ভাংচুরের বিষয়টি মুঠোফোনে জানতে পারেন। সকালে এসে দেখেন ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে ও পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তবে এই ভাংচুরের পেছনে কারা জড়িত তা তিনি জানে না। রহনপুর ইউনিয়নে গত কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগে থেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে রাতের অন্ধকারে এমন গর্হিত কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।

স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান সোহরাব জানান, একই জায়গায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করা অবশ্যই ষড়যন্ত্রের অংশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এর সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করছেন তারা। তিনি মনে করছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিনেই এমন ঘটনা প্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও মনে শঙ্কা তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, একই জায়গায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করা হয়। রাতের অন্ধকারে ভাংচুর করার ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহা. তোফিজুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করলেও কে বা কারা এমন করেছে তার কোন উল্লেখ নেই। আরেক প্রার্থী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

গোমস্তাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস মুঠোফোনে জানান, দুই প্রার্থীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে এমন কাজ যাতে না হয়, সেলক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় কারও নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা সেভেরিস সরেন জানান সারাদিন দুই প্রার্থীর লোকজন শান্তিপূর্ণভাবে যার যার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সেদিন রাত ১২টা পর্যন্ত যার যার অফিসে আড্ডা দিয়েছেন। পরে বাড়ি যাওয়ার পর হামলার খবর শুনতে পান। সকালে অফিসে এসে দেখেন ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে।

দুটি অফিসের কাছেই দোকান রয়েছে আব্দুল খালেকের। তিনি জানান, দোকান লাগিয়ে যাওয়ার পর রাত ২টার পরে শুনতে পান কে বা কারা অফিস দুটিতে ভাংচুর করেছে।

বিজ্ঞাপন

রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আল শফি আনসারী বলেন, 'গত ৪০ বছরে জাতীয় ও বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতেই কুচক্রী মহল রাতের অন্ধকারে এমন কাজ করেছে। তবে এমন কর্মকান্ড ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ করার ষড়যন্ত্র কোনভাবেই সফল হতে দেয়া যাবে না।'

রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান (চশমা)  এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গোমস্তাপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদসহ দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশের ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে ২৫ জন, ইউপি সদস্য পদে ২৭৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পদে ১০৬ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন। তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৭ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ২০ অক্টোবর। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি হয় ২৪ ও ২৫ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ছিল ২৬ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ হয় ২৭ অক্টোবর। গোমস্তাপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৬ জন।

সারাবাংলা/আরএফ/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন