বিজ্ঞাপন

করোনার বিষয়ে ফের সতর্ক হোন: প্রধানমন্ত্রী

October 28, 2021 | 8:18 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শীতকালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা দেখছি করোনা নেই, সবার মাঝে খুব আয়েশি ভাব এসে গেছে। কিন্তু এখন সময় আবার সতর্কতা অবলম্বন করার। সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলেই ইনশাআল্লাহ করোনার প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশকে আক্রমণ করতে পারবে না।’

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে কম্বল গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কবরী হল প্রান্তে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে তার পক্ষে এ সব কম্বল গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ৩৭ ব্যাংক থেকে পাওয়া মোট ২৬ লাখ ৪৫ হাজার পিস কম্বল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে আজ হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও ১০ লাখ টাকার অনুদান হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবে স্থবির না হয়। সেদিকে আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। মানুষের যে কোনো দুঃসময়ে আমি দেখেছি আমাদের ব্যাাংক অ্যাসোসিয়েশন এগিয়ে আসে। প্রত্যেক ব্যাংকের পক্ষ থেকে সবসময় সহযোগিতা করে থাকেন। নিজেদের থেকে এগিয়ে আসেন মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সে জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধশালী হোক, এই বাংলাদেশ এগিয়ে চলুক, এই বাংলাদেশের মানুষ যেন দারিদ্র্যমুক্ত হয়, একেবারে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যত বেশি ক্রয়-ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ততবেশি। আমি মনে করি যে আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে আমাদের না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো এবং ইনশাআল্লাহ বিশ্ব দরবারে আমরা নিজেদের অবস্থান করে নেব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই যে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা কখনও কারও কাছে মাথা নিচু করে চলব না। যে কারণে আমি যখনই সরকার এসেছি ব্যাংক-বীমা সবকিছু বেসরকারিখাতে দিয়েছি। প্রতিটি সেক্টরে আমাদের সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত আরও শক্তিশালী হয় দেশের মানুষের সেবা করতে পারে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এবং কর্মসংস্থান হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই কাজগুলো করেছি। যার ফলে আমি মনে করি যে বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছেন এবং সেটার সবসময় একটা ইতিবাচক ফল আমাদের দিচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সামনের শীতকাল এসে যাচ্ছে, এই ক্ষেত্রে একটি অনুরোধ আপনাদের মাধ্যমে; সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সকল জনগণের বলছি, করোনাভাইরাস বর্তমানে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কর্মসূচি দিচ্ছি এবং টিকাদান কর্মসূচি চলছে সারা বাংলাদেশে। পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে ছাত্র সমাজকেও টিকা দিচ্ছি এবং স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা ভ্যাকসিন দেব সেই প্রস্তুতিও আমরা এর মধ্যে নিয়েছি। সেই কর্মকাণ্ড আমরা শুরু করব। বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন বাদ না যায় সকল মানুষ যেন টিকা গ্রহণ করার মতো যারা নীতিমালার মধ্যে যোগ্য প্রত্যেক মানুষ টিকা পাবে। সে ব্যবস্থাটা আমরা করেছি। এটা সত্য।’

কিন্তু এটা দেখা যাচ্ছে যে যখনই শীতকাল আসছে পৃথিবীর সব দেশে আবার করোনাভাইরাস দেখা দিচ্ছে। এমনকি ইউএসএ, ইংল্যান্ড বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এরইমধ্যে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে— বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তাই তিনি বাংলাদেশের সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘শীতকালে একটু সর্দি কাশি হয়, ঠান্ডা লাগে। সর্দি কাশি হলে কিন্তু এই করোনাভাইরাসটা সাধারণত সাইনাসের মতো, তাই সেইদিকে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হবে’ বলেও জানান শেখ হাসিনা।

দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক পরার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-সিটা যেন একটু বেশি থাকে সেদিকে বেশি খেয়াল থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। প্রত্যেক ঋতুতে আমাদের বিভিন্ন ফল ফলমূল বাজারে আসে। তাই যখন যেটা দরকার সেই ফল বা শাকসবজি আমাদের খাদ্যাভাসের তালিকায় বেশি বেশি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনোভাবে ঠাণ্ডা না লাগে, কারণ এখন যেটা হয়; একসময় একটু গরম লাগে আবার ঠাণ্ডা লাগে। এই ঠাণ্ডাটা পড়বে পড়বে ভাব এই সময়টা হচ্ছে সব থেকে খারাপ। আমাদের এই অক্টোবর-নভেম্বর মাসটা সব সময় দেখা যায় যে সিজন চেঞ্জ হয়। সিজন চেঞ্জ হওয়ার ফলে সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এই সময়টায় যদি একটু সর্তকতা অবলম্বন করা যায় যাতে কোনোমতেই ঠাণ্ডা যেন না লাগে। আমরা সতর্ক  থাকলে করোনা আমাদের ধরতে পারবে না।’

তাই আমি বাংলাদেশের সকল মানুষকেই এই ব্যাপারে অন্তত একটু সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যেন করোনার আবার প্রাদুর্ভাব দেখা না দেয়। সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। মাস্কটা অবশ্যই পরে থাকতে হবে। মাস্কটা পরে থাকলে, কেউ যদি সংক্রমিত হয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে আসে তাহলে আপনি সংক্রমিত হবেন না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও কারও যদি করোনা হয়, তাহলে সে অন্যকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। কিন্তু সে হয়ত ততটা অনুভূত করতে পারে না। তারপরও কিন্তু ভাইরাস ছড়ায়। কাজেই এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে।’

এরইমধ্যে আমরা যদি টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছি আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সকল মানুষকে টিকাদান করতে সক্ষম হব বলেও অবহিত করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করা এটাই তো সবচেয়ে বড় কথা। জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা এই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে জাতির পিতা জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন