বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ

November 7, 2021 | 9:51 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কুড়িগ্রাম: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আপিল আবেদন জমা দিতে যাওয়ার পথে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই প্রার্থী সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ‘অপহরণকারীরা’ ওই প্রার্থীকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ওই প্রার্থীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা দিয়ে আপিল আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের পাওয়ার হাউজ মোড় (পিডিবি) এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই প্রার্থীর নাম আব্দুল হক ব্যাপারী। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সদ্যই তিনি জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক ব্যাপারী জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতিপত্র নিয়ে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তিনি ওই স্থানীয় নির্বাচন অফিসে বিষয়টি অবহিত করলে কর্তৃপক্ষ তাকে আপিল করার পরামর্শ দেয়।

আব্দুল হক ব্যাপারী রোববার সেই আপিল আবেদন জমা দিতে কাঁঠালবাড়ী থেকে অটোরিকশায় করে জেলা সদরে যাওয়ার পথে পাওয়ার হাউজ মোড় (পিডিবি) এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল নিয়ে তার পথরোধ করে। তাকে নির্বাচন অফিসে যেতে নিষেধ করে। তিনি তাদের নিষেধ না মেনে নির্বাচন অফিসে যেতে চাইলে তারা তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাতে ব্যর্থ হলে তিন-চার জন আব্দুল হক ব্যাপারীর অটোরিকশায় উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কয়েকটি মোটরসাইকেলের একটি বহর ওই অটোরিকশার পেছনে ছিল। এসময় আব্দুল হক ব্যাপারীর মোবাইল ফোনটিও দুর্বৃত্তরা কেড়ে নেয়। তাকে সদর উপজেলা পরিষদের পেছন দিয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে বেলগাছা ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল হক ব্যাপারীর সমর্থকরা কাঁঠালবাড়ী বাজারে কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। কর্মী-সমর্থকদের চাপের মুখে শুরু হয় পুলিশি তৎপরতা। অপহরণকারীদের কাছে এ খবর পৌঁছালে তারা আব্দুল হক ব্যাপারীকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুল হক ব্যাপারীকে উদ্ধার করে।

অপহরণকারীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী— এমন অভিযোগ করে আব্দুল হক ব্যাপারী বলেন, তাদের (অপহরণকারী) অনেককেই আমি চিনতে পেরেছি। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই তাদের এই হীন চেষ্টা। আমি এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেব।

বিজ্ঞাপন

‘আমি তাদের বলেছি, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তোমরা কেন অন্যের হুকুমে আমাকে অপহরণ করছ? এতে তোমরাই বিপদে পড়বে। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে, অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেছে। তারা হয়তো আমাকে মেরেই ফেলত,’— বলেন ভুক্তভোগী আব্দুল হক ব্যাপারী।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবশ্য অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু দাবি করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এমন কাজ করতে পারে না। অভিযুক্তরা কারও ব্যক্তিগত ক্যাডার বাহিনীর সদস্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধার দল। এই দলের নেতাকর্মীরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপহরণের মতো হীন কাজ করতে পারে না। এটি কারও ব্যক্তিগত বাহিনীর কাজ কি না, তা অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নসহ সার্বিক বিষয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি রেখেছে। ভুক্তভোগী প্রার্থী লিখিত অভিযোগ দিলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

আপিল কর্তৃপক্ষ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, আব্দুল হক ব্যাপারী আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন। তার আপিল যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন