বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের সেরা একাদশের অধিনায়ক বাবর, নেই ভারতের কেউ

November 15, 2021 | 3:54 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার হাতে শিরোপা ওঠার মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে বিশ্বকাপের সেরা একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই দায়িত্ব বর্তেছে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের।

বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসা বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন বাবর আজম। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তো হয়েছেনই। সেই সঙ্গে নেতৃত্বগুণেও মুগ্ধ করেছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। আর তাই তো আইসিসির বিশ্বকাপ সেরা একাদশের অধিনায়ক হয়েছেন তিনিই।

ধারাভাষ্যকার, সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের নিয়ে গড়া নির্বাচক প্যানেলের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে এবারের আসরের সেরা একাদশ। এই একাদশে জায়গা হয়নি ভারতের কোনো ক্রিকেটারের।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির সেরা একাদশে সর্বোচ্চ তিন জন জায়গা পেয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া থেকে। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার আছেন দুইজন করে। রানারআপ দল নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে জায়গা পেয়েছেন একজন করে।

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, জশ বাটলার, বাবর আজম (অধিনায়ক), চারিথ আসালাঙ্কা, এইডেন মার্করাম, মঈন আলী, ওয়াইনিন্দু হাসারাঙ্গা, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজেলউড, ট্রেন্ট বোল্ট এবং অ্যানরিখ নর্টিয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের সেরা একাদশের অধিনায়ক বাবর, নেই ভারতের কেউ

ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া): বিশ্বকাপের আগে ফর্মহীনতায় ভুগছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আইপিএলের দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন ফর্মহীনতার কারণেই। তবে বিশ্বকাপেই আবার স্বরূপে ফিরেছেন এই ব্যাটার। ফাইনালে ৩৮ বলে ৫৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই উদ্বোধনী ব্যাটার। টুর্নামেন্টের ৭ ইনিংসে ব্যাট হাতে ওয়ার্নারের রান সংখ্যা ২৮৯। এই সাত ম্যাচে ৪৮.১৬ গড়ে, ১৪৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। এতেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন ওয়ার্নার। আর তার বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা মেলাটা ছিল অনুমেয়ই।

বিজ্ঞাপন

জশ বাটলার (ইংল্যান্ড): জশ বাটলার বিশ্বকাপের ইতি টেনেছেন ২৬৯ রান করে। আর এতেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি অবস্থান করছেন চারে। গোটা টুর্নামেন্টে ৮৯.৬৬ গড়ে আর ১৫১.১২ স্ট্রাইক রেট ব্যাট করেছেন বাটলার। টুর্নামেন্ট জুড়ে হাঁকিয়েছেন ১৩টি ছক্কাও। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি। আছে ২২টি চারও। নামের পাশে আছে একটি শতকও। আর উইকেটরক্ষক ব্যাটার ধরেও তাকেই জায়গা দেওয়া হয়েছে সেরা একাদশে। তবে তার জায়গায় বেশ লড়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক উদ্বোধনী ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও। তবে শেষ পর্যন্ত বাটলারকেই বেছে নিয়েছে নির্বাচকরা।

বাবর আজম (পাকিস্তান): পাকিস্তানের অধিনায়ক এবং উদ্বোধনী ব্যাটার বাবর আজম গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দেখিয়েছেন তার ফর্মের ঝলক। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচ আর সেমিফাইনাল মিলিয়ে রান করেছেন ৩০৩। কোনো শতকের দেখা না পেলেও ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটি ম্যাচেই হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। এই ছয় ম্যাচে ৬০.৬০ গড়ে, ১২৬.২৫ স্ট্রাইক রেটে বাবরের রান সংখ্যা ৩০৩। গোটা টুর্নামেন্টে বাবর চার মেরেছেন ২৮টি আর ছক্কার সংখ্যা মাত্র ৫টি।

বিজ্ঞাপন

চারিথ আসালাঙ্কা (শ্রীলংকা): বাছাইপর্বের পর সুপার টুয়েলভেও ব্যাট হেসেছে শ্রীলংকা ব্যাটার চারিথ আসালাঙ্কার। দুর্দান্ত ব্যাটিং এবারের বিশ্বকাপের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন তিনি। দল সুপার টুয়েলভের গণ্ডি পেরোতে পারলে রান সংখ্যায় আরও এগোনোর সুযোগও ছিল তার কাছে। তবে শক্ত গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনালের টিকিট কাটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ওই সুপার টুয়েলভেই যাত্রা শেষ হয়েছে তাদের। টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ছয় ম্যাচে ২৩১ রান করেছেন আসালাঙ্কা। নামের পাশে আছে দুটি অর্ধশতকও। ৪৬.২০ গড়ে এবং ১৪৭.১৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে। নামের পাশে ২৩টি চারের সঙ্গে সঙ্গে আছে ৯টি ছক্কাও। দুর্দান্ত পারফর্ম করা আসালাঙ্কাকে তাই জায়গা দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপের মিডল অর্ডারের।

এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা): ব্যাট হাতে মিডল অর্ডারে দুর্দান্ত ছিলেন এইডেন মার্করাম। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচে দুটি অর্ধশতকে তিনি করেছেন ১৬২ রান। টুর্নামেন্ট জুড়ে ৫৪ গড়ে ব্যাট করেছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার।

মঈন আলী (ইংল্যান্ড):  পাওয়ার প্লে'তে বল হাতে ইয়ন মরগানের বিশ্বাস কুড়িয়েছেন মঈন আলী। দিয়েছেন অধিনায়কের বিশ্বাসের প্রতিদানও। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপটা বেশ দারুণ কেটেছে মঈন আলীর। নামের পাশে আছে ৭টি উইকেট। যদিও ব্যাট হাতে রান করেছেন মাত্র ৯২। কেননা তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে নামতেই হয়নি মঈন আলীকে। ব্যাট এবং বল উভয় বিভাগেই দুর্দান্ত পারফর্ম করতে পারেন মঈন। তাই তো বিশ্বকাপের একাদশে অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ওয়াইনিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলংকা): সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন শ্রীলংকার ওয়াইনিন্দু হাসারাঙ্গা। গোটা টুর্নামেন্টে বাছাইপর্ব এবং সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচসহ মোট আট ম্যাচে ৩০ ওভার বল করে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। মাত্র ৫.২০ ইকোনমি রেটে বল করা হাসারাঙ্গার সেরা বোলিং ফিগার ৯ রানে ৩ উইকেট।

অ্যাডাম জাম্পা (অস্ট্রেলিয়া): বল হাতে এবারের বিশ্বকাপে ছড়ি ঘুরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও তিনিই। সেমিফাইনালসহ ছয় ম্যাচে ২৩ ওভার বল করে ১২টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এরপর ফাইনালে একটি উইকেট। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে তার উইকেট সংখ্যা ১৩টি। জাম্পা এবারের টুর্নামেন্টে ৫.৮১ ইকোনমি রেটে বল করেছেন। ১৯ রানে ৫ উইকেট সেরা বোলিং ফিগার তার।

ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড): সেমিফাইনালসহ মোট ছয় ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট পেয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। ফাইনালে সতীর্থরা যখন বল হাতে নাকানিচুবানি খাচ্ছিল তখনও নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন বোল্ট। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। অজি ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিনই করে তুলেছিলেন বোল্ট তবে শেষ পর্যন্ত আর পের ওঠেননি। টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে সমান ১৩টি উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার হিসেবে। ৬.২৫—বোঝার সাধ্যি কার এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বোল্টের ইকোনমি এটি। ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন বোল্ট। সেমিফাইনালে যদিও তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। বোল্টের সেরা বোলিং ফিগার ১৭ রানে ৩ উইকেট।

জশ হ্যাজেলউড (অস্ট্রেলিয়া): বল হাতে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে গতির ঝড় তুলেছেন জশ হ্যাজেলউড। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় যৌথভাবে তিনে আছেন জশ হ্যাজেলউড। সুপার টুয়েলভের পাঁচ, এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে হ্যাজেলউডের উইকেট সংখ্যা ৭ ম্যাচে ১১টি। এতেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় তিনে উঠে এসেছেন তিনি। এই সাত ম্যাচে ২৪ ওভারে ১৭৫ রান দিয়ে ১১ উইকেট নিয়েছেন হ্যাজলউড। ৭.২৯ ইকোনোমি রেটে বল করা হ্যাজলউডের সেরা বোলিং ফিগার ৩৯ রানে ৪ উইকেট।

অ্যানরিখ নর্টিয়ে (দক্ষিণ আফ্রিকা): দলের ব্যর্থতার কারণে সেমিফাইনাল খেলা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে নিজের কাজটা দুর্দান্তভাবেই পালন করেছেন অ্যানরিখ নর্টিয়ে। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচে ১৯.২ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৯টি উইকেট। ৫.৩৭ ইকোনমি রেটে বল করা নর্টিয়ের সেরা বোলিং ফিগার ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট। আর এতেই জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশে।

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন