বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যার তদন্তে মহিউদ্দিন সেলিম

November 22, 2021 | 6:05 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন হয়েছে। আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্প্রতি বদলি হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন সংস্থার আরেক পরিদর্শক এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিমকে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ নভেম্বর) পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর শাখার পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা পিবিআই পরিদর্শক এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিমকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা বদলি হওয়ায় নতুনভাবে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত এগিয়ে নেবেন।’

বিজ্ঞাপন

পিবিআই চট্টগ্রাম নগর শাখা থেকে বদলি হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) যোগ দেন। তিনি বর্তমানে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পরিদর্শক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আলোচিত এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম জেলা শাখায় কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে একই সংস্থার নগর শাখায় বদলি করা হয়। এরপর সোমবার তিনি নগর শাখায় যোগ দিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার দায়িত্বভার নিয়েছি। আপাতত কেস ডকেট, নথিপত্র যা যা আছে সেগুলো পর্যালোচনা করছি। এরপর তদন্ত শুরু হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করব।’

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। শুরু থেকেই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা মামলা তদন্ত করে আসছিলেন। মামলাটির তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতিও এসেছে পিবিআইয়ের হাত ধরে। মিতু হত্যার ঘটনায় দু’টি মামলা এখন তদন্তাধীন আছে। এর মধ্যে মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার যে মামলাটি করেছিলেন, সেটির তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল পিবিআই। কিন্তু আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে সেটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা পৃথক মামলারও তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (মেট্রো) নাঈমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করবেন। একইসঙ্গে দ্বিতীয় মামলাটির তদন্তও এগিয়ে নেবেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নানাভাবে স্ত্রী খুনে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ্যে আনেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই মামলার।

চলতি বছরের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দাখিলের পর গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া। ওই দিনই (১২ মে) বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

এদিকে, গত ১৪ অক্টোবর কারাবন্দি বাবুল আক্তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করেন। ২৭ অক্টোবর ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয় বাবুল আক্তারের উপস্থিতিতে। আদালত বাবুলের নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ‘টেকনিক্যাল ত্রুটি’ আছে উল্লেখ করে অধিকতর তদন্ত করে পুনরায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত পিবিআইকে নির্দেশ দেন। ১২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। তবে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া নিয়ে আপত্তি আছে বাবুলের আইনজীবীর।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন