বিজ্ঞাপন

সরকারের ইচ্ছা নেই যে তিনি বেঁচে থাকুক: মির্জা ফখরুল

November 24, 2021 | 5:45 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেঁচে থাকুক, তা সরকার চায় না— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া ইস্যুতে পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে এ যৌথসভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আইনগত বিষয় নিয়ে আমরা বলেছি, আমাদের আইজবীবীরা কথা বলেছেন। কোথাও কোনো বাধা নেই। এখন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায়, এই মুহূর্তেই সরকার তাকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে পাঠাতে পারে। সব ক্ষমতা সরকারের এবং সমস্ত দায়ও সরকারের। আমরা বার বার এই কথাটি বলছি, দেশের মানুষ বিশ্বাসও করে— ‘সরকারের ইচ্ছা নেই যে তিনি (খালেদা জিয়া) বেঁচে থাকুক।’”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- খালেদার অবস্থা ক্রিটিক্যাল, আজই বিদেশে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহ

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের নয়নের মণি, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার যে অবদান, এটি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিজ্ঞাপন

‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে দুই শিশু সন্তানসহ তাকে ক্যান্টনমেন্টের কারাগারে থাকতে হয়েছে। পরবর্তীকালে তার ওপর যখন রাজনৈতিক দায়িত্ব এসেছে, তখন তিনি গৃহবধূ ছিলেন। সেই সময় থেকেই এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে, প্রতিটি অঞ্চলে তিনি ছুটে বেরিয়েছেন। তিনি বারবার সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তার সময়ই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করা হয়েছিল। তার শাসন আমলে এ দেশে নারী শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন- খালেদা জিয়া ইস্যুতে ৮ দিনের কর্মসূচি বিএনপির

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সেই নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে, তিন বছর কোনো চিকিৎসা না দিয়ে আজ প্রায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার জন্য, বি-রাজনীতিকরণের জন্য, জনগণের দাবি নিয়ে তিনি যেন সামনে আসতে না পারেন, সেই জন্য তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার মুত্যর ‘গুজব’ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এগুলোতে কান দেবেন না। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ফোন দেবেন। হীন উদ্দেশে এগুলো ছড়ানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
সরকারের ইচ্ছা নেই যে তিনি বেঁচে থাকুক: মির্জা ফখরুল

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা শাহ নেছারুল হক, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকনসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বহু বছর ধরে তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এ বছর এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত টানা ৫৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। পরে গত ১২ অক্টোবর নিয়মিত চেকআপের জন্য ফের হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। ২৫ অক্টোবর বায়োপসির জন্য তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। ২৬ দিন পর গত ৭ নভেম্বর গুলশানের বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

আরও পড়ুন- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত: এভারকেয়ার

এর ছয় দিন পর গত ১৩ নভেম্বর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফের তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখার পর হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে কেবিনে রাখা হলেও পরদিন ১৪ নভেম্বর দুপুরের পর তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত হাসপাতালেই আছেন তিনি।

এর আগে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তখন থেকে তিনি গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজা’য় রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকার সেই আবেদন আমলে নেয়নি। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য, সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে দেশে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে। বিদেশে যেতে হলে কারাগারে ফিরে আবেদন করতে হবে।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন