বিজ্ঞাপন

পাট থেকে স্যানিটারি প্যাড বানিয়ে পুরস্কার জিতলেন ফারহানা

November 24, 2021 | 11:59 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

পাট থেকে প্রাপ্ত সেলুলোজ দিয়ে স্যানিটারি প্যাড তৈরির মেশিন বানিয়ে আন্তর্জাতিক এক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারহানা সুলতানা। আমেরিকান সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন (এএসটিএমএইচ)-এর ২০২১ সালের অ্যানুয়াল ইনোভেশন পিচ কম্পিটিশনের ‘গ্র্যান্ড প্রাইজ উইনার’ হয়েছেন আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এই বিজ্ঞানী। ২০১৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই সম্মাননার চতুর্থ বর্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই পুরস্কার জিতেছেন।

বিজ্ঞাপন

আইসিডিডিআর,বি বলছে, ফারহানা এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, যেটি পাটের সেলুলোজ দিয়ে স্যানিটারি প্যাড তৈরি করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে আরও সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি প্যাড তৈরি করা যাবে, যা বাংলাদেশের নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমেদ খানের সঙ্গে সমন্বয় করে আইসিডিডিআর,বি’র গবেষক ফারহানা সুলতানা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাটের সেলুলোজভিত্তিক ডিসপোজেবল প্যাড তৈরির জন্য তার যন্ত্রটিতে পরীক্ষা চালিয়েছেন। এ ধরনের কোনো যন্ত্র এখন পর্যন্ত দেশে তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আইসিডিডিআর,বি তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, এএসটিএমএইচের এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছেন ফারহানা। পুরস্কারের টাকা দিয়ে ফারহানা আরও বেশিসংখ্যক প্যাড উৎপাদনের জন্য পরীক্ষা চালাবেন। একইসঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে এটি উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করবেন। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করবেন তিনি। ফারহানা ২০২২ সালে এই প্রতিযোগিতার পরবর্তী আসরে বিচারকের ভূমিকাও পালন করবেন।

এএসটিএমএইচের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বার্ষিক উদ্ভাবন পিচ প্রতিযোগিতার এবারের পর্বে এমন সব উদ্ভাবনী ধারাণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যেগুলো ঝুঁকি নিরসন, ভবিষ্যদ্বাণীর উন্নয়ন এবং স্বল্প সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকায় প্রাদুর্ভাব-প্রবণ রোগের ক্ষেত্রে আরও ভালো স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সক্ষম।

বিজ্ঞাপন

এবারের এই ইনোভেশন পিচ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল— মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসম্মত বিশ্ব সম্প্রদায়। এর আওতায় মহামারি মোকাবিলা করে ফের সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা— এই দুইটি হুমকি মোকাবিলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এই প্রতিযোগিতায় এমন সব সরঞ্জাম ও পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে যা এই দুইটি হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই বিশ্ব গড়তে ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত উদ্ভাবনগুলোর মূল ভিত্তি বিজ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলো যেন পরিমাপযোগ্য ও বিপণনযোগ্য হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মালয়েশিয়ার আইপিপিসি’র বিবেক জেসন ভায়ারাজ। এছাড়াও শ্রীলঙ্কার শ্রী জয়বর্ধনেপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শচিনি ফার্নান্দো, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিরুনি হরিচন্দ্র ও উগান্ডার মেকেরের বিশ্ববিদ্যালয়ের দেউস কাম্যা এই পুরস্কার জিতেছেন।

চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন স্পেনের এসআইগ্লোবালের কোয়া অ্যালেন, সুইজারল্যান্ডের ‘ফাইন্ড’র ড্যান বাউশ, যুক্তরাষ্ট্রের ভেকটেকের মারগারেট গ্ল্যান্সি ও সিয়াটল চিলড্রেনস হসপিটালের টমাস লেন্ডভে এবং জার্মানির রশে ডায়াগনস্টিকের ম্যাথিয়াস স্ট্রোবল।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন