বিজ্ঞাপন

‘দেশে করোনা এখনও হুমকির পরিস্থিতিতে রয়েছে’

November 25, 2021 | 1:14 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের হার গত দুই মাস ধরে দুই শতাংশের নিচে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও যে কোনো সময় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে মৃগীরোগ চিকিৎসার গাইড লাইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ উদ্বেগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদেশের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু এখনো মাস্ক খুলে ঘোরাফেরা করার সময় আসেনি। যেকোনো সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। করোনা এখনও হুমকির পরিস্থিতিতে রয়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। ভালো পরিস্থিতি ধরে রাখতে হবে। মাস্ক পরতে হবে সবাইকে।

দেশে আগামীতে বড় পরিসরে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ২৫ শতাংশ মানুষ ২ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছেন। এ পর্যন্ত দেশের ৪০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটা চলতে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

মৃগী রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিউরো সমস্যায় যারা পড়েন তাদের জন্য নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট তৈরি করা হয়েছে। নাক, কান গলা ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ইপিলিপসি রোগীদের জন্যও আধুনিক প্রতিষ্ঠান করার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে ২০ লাখ 'অটিস্টিক' শিশু আছে। মৃগী রোগ নিয়ে গ্রামে একসময় অনেক ভুল ধারণা ছিল। বলতো ভূতে ধরেছে। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। গর্ভবতী মা যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা ডেলিভারির সময় মায়ের অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়, তাহলে বাচ্চাদের এ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, মৃগী রোগীদের সহানুভূতির সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। মৃগীরোগ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ এই রোগের চিকিৎসার বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিএসএমএমইউ’র নিউরোলজি বিভাগ, শিশু নিউরোলজি বিভাগ ও ইন্সটিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) মৃগীরোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বে প্রায় পাঁচ কোটি লোক মৃগীরোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ লোক মৃগীরোগে আক্রান্ত। সেই হিসেবে এদেশে প্রায় পৌনে ১৪ লাখ মৃগী রোগী আছে। শতকরা প্রায় ৮০ জন মৃগীরোগী উন্নয়নশীল, দরিদ্র, মধ্যম আয়ের অথবা স্বল্প বিশেষজ্ঞ সম্পন্ন দেশে বিদ্যমান। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা নিলে ৭০ ভাগ মৃগীরোগী ভালো হয়ে যান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, বিএসএমএমইউ নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাসান জাহিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আহসান হাবীব, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে সহ অন্যান্যরা।

সারাবাংলা/এসবি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন