বিজ্ঞাপন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাট প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বাড়ছে

November 25, 2021 | 9:09 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ফের ব্যয় বাড়ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) পাট উন্নয়ন প্রকল্পে। একইসঙ্গে মেয়াদও বাড়ছে দুই বছর। ফলে তিন বছরের এ প্রকল্পটি ঠেকছে প্রায় ১৩ বছরে। এজন্য ‘পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা’ শীর্ষক প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশি পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং সম্প্রসারণ এবং জিনগুলো শনাক্ত করা, বিভিন্ন পরিবেশে পাট পঁচানোর সঙ্গে জড়িত অনুজীবগুলোর জিনোম সিকুয়েন্সিং সম্পন্নকরণ  এবং বিজেধারআই’র জিন ব্যাংকে সংরক্ষিত পাটের জার্মপ্লাজম হতে প্রয়োজনীয় জিন শনাক্ত করা ও তার প্রয়োগ করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় হতে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে  উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিজেআরআই।

সূত্র জানায়, মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর  হতে ২০১৩ সালের আগস্টে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৩ বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এতেও শেষ হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। অবশেষে তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২ বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ করা হয়। এখন প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধীত প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জিনোম তথ্য ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে আধুনিক পদ্ধতিতে পাটের কাঙ্ক্ষিত জাত, উন্নয়ন, পাট ও অন্যান্য ফসলের ওপর জিনোম গবেষণার জন্য একটি প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা এবং গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের জন্য পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা মূল প্রকল্পটি ৬৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর হতে ২০১৩ সালের আগস্টে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির ২ বার সংশোধন, দুইবার আন্তঃঅঙ্গ সমন্বয় এবং এবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পটির সর্বশেষ অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ১২৮ কোটি এবং মেয়াদ ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর হতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।  এ পর্য়ায়ে প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট জিনোম গবেষণা অবকাঠামো এবং গবেষণা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) সংস্থান অনুযায়ী আইনের মাধ্যমে পৃথক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিবর্তে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের আওতায় চূড়ান্তভাবে উইং সৃষ্টি পর্যন্ত বিদ্যমান দক্ষ জনবলের মাধ্যমে জিনোম গবেষণা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বৃদ্ধিসহ ২ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে মোট ১৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে,পাটের জিনোম সিকুয়েন্সি, কোয়ালিটি অ্যানালাইসিস, ওয়েট ল্যাব ভেরিফিকেশন ও মাঠ গবেষণা করা হবে। গবেষণা সংশ্লিষ্ট সম্পদ সংগ্রহ, গবেষণাগার সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, আনুষঙ্গিক অবকাঠমো গ্রিন হাউস, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কেন্দ্র নির্মাণ, মাটি ভরাট, দুইজন উচ্চ শিক্ষা পিএএইচডি, ৩০টি প্রশিক্ষণ, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালা, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক ও গবেষক নিয়োগ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি জিনোমিক্স ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়নের পরিবর্তে বিজেধারআই’র আওতায় জিনোম গবেষণা সেন্টার উইং সৃষ্টির চলমান কার্যক্রম সমাপ্ত করা। উইং সৃষ্টি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ কার্যক্রম চলমান রাখা। গবেষণার ফলাফল সুবিধাভোগীর নিকট সহজলভ্য টেকসই করার জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম স্থায়ী রূপদান। গবেষণা ও প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য কেবল রাজস্ব খাতের ব্যয় মোট ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটির আওতায় গবেষণা সরঞ্জামসহ অবকাঠামো নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। এরমধ্যে জিনোম গবেষণায় অর্জিত ফলাফলের মেধাসত্ব সংরক্ষণের জন্য ২৪৫টি আবেদন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৬৫টি আবেদন নেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাছাড়া পাটের জাত উন্নয়ন বিষয়ক বেশ কয়েকটি গবেষণা চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট অবকাঠামোসহ গবেষণা কার্যক্রম টেকসই করার জন্য বিজেআরআইএ একটি উইং সৃষ্টির প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। উইং সৃষ্টির মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাজেটভুক্ত হওয়া পর্যন্ত গবেষণা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্যই প্রকল্পটি ২ বছর বৃদ্ধিসহ তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন