বিজ্ঞাপন

বিচারক কামরুন্নাহার ফিট নন: আপিল বিভাগ

November 25, 2021 | 2:33 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকার পরও এক আসামিকে জামিন দিয়ে আপিল আদালতের আদেশ লঙ্ঘণ করেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার।

বিজ্ঞাপন

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগের গত বুধবার (২৪ নভেম্বর) দেওয়া ‘রাষ্ট্র বনাম আসলাম সিকদার’ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার রাতে ছয় পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

‘রাষ্ট্র বনাম আসলাম সিকদার’ মামলার রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, কামরুন্নাহার কোনো ধরনের ফৌজদারি বিষয় পরিচালনার জন্য উপযুক্ত (ফিট) নন। তাই সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে তার বিচারিক ক্ষমতা সিজ করা হলো। তিনি দেশের কোনো আদালতে ফৌজদারি বিষয় পরিচালনা করতে পারবেন না। একইসঙ্গে এই আদেশ কামরুন্নাহারের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ওই ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকার পরও এক আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় এই বিচারককে গত বছরের ১২ মার্চ তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ। ২ এপ্রিল হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু করোনার পরে এই মামলাটি আর কার্যতালিকায় আসেনি। পরে মামলটি ফের গত ২২ নভেম্বর (সোমবার) কার্যতালিকায় ওঠে।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারক কামরুন্নাহার আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে হাজির হন। পরে ওই বিচারকক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন অফিসার, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানান, তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা ক্ষমতা কেড়ে (seize) নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলায় গত ১১ নভেম্বর দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার পুলিশের উদ্দেশে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে ‘পরামর্শ’ দেন। এরপর রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন