বিজ্ঞাপন

৭ মাস পর ফের রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু

November 25, 2021 | 4:12 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাত মাস পর ফের কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করেছে নৌ বাহিনী। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের রাখার সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্ত হওয়ার পর তাদের মধ্যে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে বলে নৌ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাব থেকে নৌ বাহিনীর জাহাজ পেঙ্গুইন ৩৮০ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এদের মধ্যে ১৩২ জন পুরুষ, ৯৮ জন নারী এবং ১৪৯ জন শিশু।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে তাদের কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, সর্বশেষ ২১ এপ্রিল ষষ্ঠ দফায় রোহিঙ্গাদের একটি দলকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শেষ সাত মাসে আর কোনো রোহিঙ্গা দলকে ভাসানচরে না নেওয়ায় স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলে আলোচনা ছিল।

নৌ বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, এপ্রিলের পর বর্ষা চলে আসায় সাগর উত্তাল ছিল। সেজন্য আমরা আর কোনো রোহিঙ্গা দলকে ভাসানচরে নিতে পারিনি। এখন প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক হয়েছে। সেজন্য রোহিঙ্গাদের আবারও ভাসানচরে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভাসানচর নিয়ে নানা গুজব ছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘ-ইউএনএইচসিআরসহ আরও সংগঠন ভাসানচরে যুক্ত হয়েছে। এরপর রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেখানে যাবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ৩ ডিসেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া ‍শুরু হয়। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪০০ রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়া হয়। তবে অনেক রোহিঙ্গা ভাসানচর থেকে পালিয়ে এসে মীরসরাই, জোরারগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপে আটক হয়েছেন। ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান আছে কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে। ২০১৭ সালের আগস্টে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে, যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তুর ঠিকানা হয় বাংলাদেশ। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে সামাজিক নানা সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচর নেওয়ার ব্যবস্থা করে সরকার। ১৩ হাজার একর আয়তনের ভাসানচরে প্রায় দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করেছে নৌ বাহিনী। প্রথম দিকে সমর্থন না দিলেও সম্প্রতি জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধি দল ভাসানচর পরিদর্শন শেষে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/একেএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন