বিজ্ঞাপন

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তিতে জামুকার ১০ শতাংশের নীতি বাতিল

November 25, 2021 | 5:01 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এলাকাভেদে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির জন্য বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ভাতা-ভোগী সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি তালিকাভুক্ত করা যাবে না— জামুকার এমন সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী।

প্রত্যেক উপজেলায় গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির জন্য বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ভাতাভোগী সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি তালিকাভুক্ত করা যাবে না— জামুকা’র এমন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন, একই বছরের মার্চ মাসে মিনাজ উদ্দিন এবং ২০২০ সালের আগস্ট মাসে কাজী সামসুদ্দিন ও অন্যান্য তিনটি রিট দায়ের করেন। এরপর আদালত রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশে সীমিত রাখার সুপারিশের সিদ্ধান্ত কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। ওই রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় আজ হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ের পর রিটকারীদের আইনজীবী মো. তৌফিক ইনাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) ৬১তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশে সীমিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা শুধু বেআইনিই নয় অসাংবিধানিকও। কারণ বিভিন্ন এলাকাভেদে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০ শতাংশের কম বা বেশিও হতে পারে। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেও তালিকার বাইরে রাখা যেমন বেআইনি, একইভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় এমন একজনকেও তালিকাভুক্ত করা বেআইনি। কিন্তু এ ধরনের পরিপত্র জারি করার মাধ্যমে জামুকা যাচাই-বাছাই কমিটিকে একটি ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে। তারা তাদের সুবিধা ও সন্তুষ্টি অনুসারে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু এই সংখ্যা এলাকাভেদে অনেক বেশি, আবার কোথাও কমও হতে পারে। তাই এ ধরনের সংখ্যানির্ধারণ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ও সংবিধান সমর্থন করে না।’

সারাবাংলা/কেআইএফ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন