বিজ্ঞাপন

জেল সুপার-জেলারের বিরুদ্ধে বন্দি নির্যাতনের অভিযোগ

November 25, 2021 | 6:49 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে নির্যাতনের অভিযোগে জেল সুপার, জেলারসহ পাঁচ কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দাখিল করা হয়েছে আদালতে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরওয়ার জাহানের আদালতে ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা পারভিন আক্তার হিরা এ আবেদন দাখিল করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম, জেলার দেওয়ান তারিকুল ইসলাম, ডেপুটি জেলার মো. সাইমুর, কারারক্ষী সবুজ দাশ এবং সুবেদার মো. এমদাদ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী বখতেয়ার উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদন গ্রহণ করেছেন। ৩০ নভেম্বর আদেশ দেবেন।’

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাদী পারভিন আক্তারের স্বামী মো. শামীম সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আছেন। চলতি বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত তিনি কারাগারের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অর্থাৎ হাসপাতালে ছিলেন। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত। অভিযুক্তরা কারা অভ্যন্তরে বিভিন্নসময় তাকে শারীরিকভাবে নাজেহাল ও মারধর করেন।’

বিজ্ঞাপন

সঠিক সময়ে খাবার না দেওয়ার প্রতিবাদ করায় গত ১২ জুলাই জেলার তারিকুল বন্দি শামীমকে বেধড়ক মারধর করেন। এরপর ১৭ জুলাই ভোরে এমদাদ, সবুজ ও সাইমুর গিয়ে তাকে কারা অভ্যন্তরে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর তাকে জেলারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন জেলার তারিকুল বলেন- শালা এখনও মরে নাই, মরিলে এক কলম লিখে দেব, কিছুই হবে না। একথা বলে জেলারও আবার শামীমকে মারধর করেন। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে শামীমকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট কুমিল্লা কারাগার থেকে বন্দি শামীম টেলিফোনে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এরপর স্ত্রী পারভিন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। গত ১১ নভেম্বর শামীমকে পৃথক দু’টি মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য নিলে তিনি বিষয়টি স্ত্রীকে সরাসরি খুলে বলেন। এরপর পারভিন মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান তারিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘শামীম হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি ছিলেন। হাইকোর্টের রায়ে সম্প্রতি সেটা কমে যাবজ্জীবন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও নয়টি মামলা বিচারাধীন আছে। সে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কারাগারে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় দাপটের সঙ্গে অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করত। গত জুলাইয়ে সে একজন সাধারণ বন্দিকে মারধর করে। এ ঘটনার তদন্ত করতে গেলে জানতে পারি, তার নির্যাতনে অন্যান্য বন্দিরা অতিষ্ঠ। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। কুমিল্লা কারাগার থেকে আবারও চট্টগ্রাম কারাগারে ফেরার জন্য সে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। তার অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।’

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন