বিজ্ঞাপন

‘সাংবাদিকদের ফাটিয়ে ফেলবি, পুলিশ তোদের সঙ্গে আছে’

November 28, 2021 | 9:05 am

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

লক্ষ্মীপুর: ‘সাংবাদিকদের ফাটিয়ে ফেলবি, পুলিশ তোদের সঙ্গে আছে’-দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা দিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে আগত একদল সাংবাদিককে এই হুমকি দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সন্ধ্যায় ওই এলাকাঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্র ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নৌকা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর পোস্টার নেই। বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এলাকায় থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। ভোটারদের মধ্যেও ভয়ভীতি বিরাজ করছে।

তৃতীয় ধাপে রোববার দেশের ১ হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১০টি ইউপিতে ভোট চলছে। যদিও ১০ জনের মধ্যে ৩ জন চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

৫ নং চরপাতা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম সারাবাংলাকে বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের দুইদিন আগে থেকে ইউনিয়নে হাজার হাজার বহিরাগত প্রবেশ করে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে আতংক সৃষ্টি করছে। এসব ঘটনা নিয়ে আমি ৯টি অভিযোগ করেছি। কিন্তু প্রশাসনকে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

একই ইউনিয়নের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী বিল্লাল হোসেন (আনারস) ও হিজবুল্লাহ গুনু (মোটরসাইকেল) সাংবাদিক এসেছে শুনে ইউনিয়ন পরিষদে ছুটে আসেন। তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। প্রতিপক্ষের ভয়ে পালিয়ে আছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

‘সাংবাদিকদের ফাটিয়ে ফেলবি, পুলিশ তোদের সঙ্গে আছে’

এরপর একদল পুলিশ এসে সাংবাদিকদের নানান ধরনের জেরা শুরু করেন। পুলিশের কিছুক্ষণ পর একদল লোক নিয়ে হাজির হন রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ। তিনি চিৎকার করে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা অসিমকে বলেন, এরা কারা? এদের সবাইকে থানায় নিয়ে যান। সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষেপে যান।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে আপনাদের কাজ কী? আপনারা কেন এসেছেন?

এ সময় নৌকা প্রতীক পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মামুনুর রশিদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য দেখা করতে চাইলেও তারা হুমকি-ধামকি দিয়ে বলেন, আপনাদের মতো সাংবাদিকের কোনো দরকার নেই আমাদের প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করার। আমাদের প্রার্থী এমনিতেই জয়ী হবেন। আপনারা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তার সঙ্গে থাকা লোকজনদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ফাটিয়ে ফেলবি পুলিশ তোদের সাথে আছে'।

এই বিষয়ে অভিযোগ করলে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টা আমি দেখছি। নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। নিয়ম অনুযায়ী তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

‘সাংবাদিকদের ফাটিয়ে ফেলবি, পুলিশ তোদের সঙ্গে আছে’

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশনের বৈধ অনুমতি বা পরিচয়পত্র থাকলে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আবাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন দিতে আমরা শতভাগ প্রস্তুত। আমরা নির্বাচনি আইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। কোনো অন্যায়কারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ কোনো বিশেষ সুবিধা পাবে না।’

ওই ইউনিয়নের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন এটা কী ধরনের নির্বাচন হচ্ছে? নির্বাচন এখন টাকার কাছে সব বিক্রি। এখন আর কোনো আনন্দ পাই না।

সোনাপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল) প্রতীকের সোগার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের প্রত্যেকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হলে সুষ্ঠু ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচন হবে বলে আশা করছেন। এ পর্যন্ত ৫টি অভিযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন মোল্লা বলেন, বহিরাগতদের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। বহিরাগতদের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে।

সারাবাংলা/জিএস/এএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন