বিজ্ঞাপন

স্লোগান, গান আর ছবি এঁকে হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদ

November 28, 2021 | 8:18 pm

ঢাকা: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক শকে এবং শিকারিদের গুলিতে কমপক্ষে চারটি হাতির মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে স্লোগান, গান আর ছবি এঁকে হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে 'বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট' নামে একটি সংগঠন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনের ফটকে অবস্থান নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে তারা। সকাল থেকে শুরু হওয়া সেই আয়োজনে মোট ৫০টির মতো সংগঠনের কর্মীরা ভিন্নরকম এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এসময় তারা গান, কবিতা ও হাতির চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমেরও প্রতিবাদ করেন।

এর আগে শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) হাতি হত্যা ও বন উজাড় রোধে প্রাথমিকভাবে ২৭টি পরিবেশবাদী সংগঠন একত্রিত হয়ে 'বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট' নামে আত্মপ্রকাশ করে। পরে সেখানে আরও ৬টি সংগঠন যুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

আয়োজনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে প্রতিনিয়ত বন্যপ্রাণী হত্যা ও বনভূমি উজাড় করা হলেও বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বন অধিদফতর তা ঠেকাতে বরাবরই ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কিছুদিন পরে ছবিতে আঁকা হাতি দেখিয়ে বলতে হবে দেশে একসময় হাতি ছিল।

পূর্বঘোষিত সময় সকাল ৯টায় জোটের আহ্বায়ক পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক কেফায়েত শাকিল ও শামস সুমনের সঞ্চালনায় শুরু হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার, বিভিনিউজ২৪ ডটকম এর প্রধান সম্পাদক ও বাংলাভিশনের টকশো উপস্থাপক ইয়াসির ইয়ামীন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর কনসালটেন্ট আব্দুল ওহাব সহ জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর নেতারা।

বিজ্ঞাপন

দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বাউল গান, গল্প এবং কবিতার ছন্দে জানানো হয় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক এমিলের নেতৃত্বে জীবিত ও মৃত হাতির ছবিও আঁকেন চিত্রশিল্পীরা।

স্লোগান, গান আর ছবি এঁকে হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদ

বিজ্ঞাপন

বিকেলে জোটের আহ্বায়কের নেতৃত্বে বন অধিদফতরে অনাস্থাপত্র নিয়ে যান ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রধান বন সংরক্ষক সচিবালয়ে থাকায় তাঁর পক্ষে অনাস্থাপত্রটি গ্রহণ করেন বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ ও সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক মো. আব্দুস ছালেক প্রধান।

অনাস্থাপত্রের পাশাপাশি আস্থা ফেরাতে জোটের পক্ষে দফা প্রস্তাবনা ও দাবি তুলে ধরেন নেতারা। দাবিগুলো হলো—

বিজ্ঞাপন

১. হাতি হত্যার ঘটনাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত ও শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে;
২.হাতির কোরিডোর থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে হাতির আবাসস্থল হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হবে;
৩. দেশের বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে;
৪. বন, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বিদ্যমান সকল আইনে প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে সন্নিবেশ করতে হবে এবং এ বিভাগের জনাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;
৫. বননীতি পরিবর্তন করে বনভূমিতে বাণিজ্যিকরণ এবং এরবিরুদ্ধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং বনভূমিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং সংরক্ষণের স্থানহিসেবে সুরক্ষিত করতে হবে;
৬. প্রতিটি বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে বনবিভাগের ভূমিকা সকলের কাছে স্পষ্ট করতে হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;
৭. এসডিজি-১৪ এবং ১৫ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে;
৮.নতুন করে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আর কোনো বনভূমি বরাদ্দ না দেওয়া এবং বন বিভাগের লোকবল ও বরাদ্দ বাড়িয়ে যুগউপযোগি এবং আধুনিক করে গড়ে তোলা।

স্লোগান, গান আর ছবি এঁকে হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদ

অনাস্থাপত্রটি গ্রহণ করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এসে একাত্মতা ঘোষণা করেন বন অধিদফতরের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ ও সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক মো. আব্দুস ছালেক প্রধান। এসময় সমস্যা সমাধানে নিজেদের তৎপরতা তুলে ধরে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লহ আল নাঈম, সেভ আওয়রা-সি এর মহাসচিব আনোয়ারুল হক, ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান সমন্বয়ক সাইদুল ইসলাম, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নয়ন সরকার, সবুজ আন্দোলন-এর অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন রুপা, গ্রীন ফাইটিং মুভমেন্ট-এর সভাপতি নাবিল আহমদ, সবুজ কুঁড়ি বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম উজ্জ্বল প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন