বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ির প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান লাকী, চমক দেখাল জেএসএস-ও

November 28, 2021 | 11:18 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির কোনো ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদা বেগম লাকী। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, এই ধাপে খাগড়াছড়ির সাত ইউপির মধ্যে একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং একটি ভোটে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। দুইটি ইউপিতে ফল স্থগিত রয়েছে। বাকি দুইটি ইউপিতে জয় পেয়েছেন জন সংহতি সমিতি (জেএসএস, সংস্কার) দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ফল স্থগিত থাকা দুই ইউপির মধ্যেও একটিতে জেএসএস (সংস্কার) গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রার্থী এগিয়ে আছেন। আরেকটিতে চেয়ারম্যান পদে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।

রোববার (২৮ নভেম্বর) সারাদেশের আরও প্রায় এক হাজার ইউপির সঙ্গে খাগড়াছড়ির এই সাতটি ইউপি নির্বাচনেও ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাত ইউনিয়নের মধ্যে দুইটির ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় ধাপের এই ইউপিতে পাহাড়ের একমাত্র নারী হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন নৌকা প্রতীকের মাহমুদা বেগম লাকী। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে তিনি ১০ হাজার ৪৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমাব্রত কারবারি, তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯০৭ ভোট। এর ফলে নারী হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রথম নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের তকমা এখন লাকীর।

নির্বাচনে মহালছড়ি উপজেলার মহালছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রতন কুমার শীল ৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লাব্রেচাই মারমা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪৪ ভোট। অন্যদিকে ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের রুপেন্দু দেওয়ান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মুবাছড়ি ইউনিয়নে জেএসএস সংস্কার গ্রুপের বাপ্পী খীসা ৩ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের কংজরী মারমা, তিনি পেয়েছেন ৮৩৪ ভোট। দিঘীনালার বোয়ালখালী ইউপিতেও জয় পেয়েছেন জেএসএস সংস্কার গ্রুপের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী চয়ন বিকাশ চাকমা (কালাধন)। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ২৪৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. মোস্তফা পেয়েছেন ৩ হাজার ৯০৭ ভোট।

এদিকে, মাইসছড়ি ও কবাখালী ইউপিতে ভোট হলেও ফল স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে কবাখালীতে জেএসএস সংস্কার গ্রুপের নলেজ চাকমা জ্ঞান ৫ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৬ ভোট। কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এই দুই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৮০০। ভোটকেন্দ্র দু’টিতে পাহাড়ি ভোটারের সংখ্যা বেশি। এছাড়া নলেজ চাকমা যে পরিমাণ ভোটে এগিয়ে আছেন, তাতে বাকি দুই কেন্দ্রের ফল এলে নলেজ চাকমাই জয় পাবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে মাইসছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত রয়েছে। বাকি আট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সাজাই মারমা ৩ হাজার ৩১১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭। স্থগিত মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটারে সংখ্যা  ১ হাজার ৩০৫। সে হিসাবে এই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে না জিতলে এই ইউপিতে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীই জয় পেতে পারেন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ও জেলা নির্বাচন কর্মকতা সাইদুর রহমান বলেন, দুয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রেই ভোট ভালো হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন