বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখবে প্রিমিয়ার ব্যাংক

December 2, 2021 | 7:52 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২৩ বছরে পদার্পণ করেছে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক অবদান রেখেছে ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্যাংকের নানা সেবা বিষয়ে কথা বলেন এসএমই ও কৃষিঋণ বিভাগের এসইভিপি ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হচ্ছেন ডা. এইচ বি এম ইকবাল। তিনি ১৯৭১ সালে দেশকে মুক্ত করার জন্য যেভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করেন প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ডা. ইকবাল ঘোষণা করেছেন প্রিমিয়ার ব্যাংক হবে গণমানুষের ব্যাংক। কারণ স্যার বুঝতে পেরেছিলেন এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতার জন্য এসএমই ও কৃষিঋণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে আমাদের এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩০ শতাংশের ওপরে।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে মোট ঋণের ২১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগের ওপরে অর্জনের তালিকায় প্রিমিয়ার ব্যাংক স্থান পেয়েছে। এর পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত কৃষি ঋণ প্রণোদনার লক্ষমাত্রার অধিক কৃষি ঋণ বিতরণ করেছি। এ ছাড়া গত বছরের কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল ৩৫৬ কোটি আর প্রিমিয়ার ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ৩৭২ কোটি। তথ্য বিবেচনায় দেখা যায়— আমাদের এসএমই ও কৃষি ঋণ বিতরণ অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে।

বিজ্ঞাপন

ইমতিয়াজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক একটি এসএমই ও কৃষিঋণবান্ধব ব্যাংক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য প্রিমিয়ার ব্যাংক বেশ কিছু ঋণ সুবিধার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এই সব ক্ষুদ্র ঋণের মধ্যে প্রিমিয়ার সমৃদ্ধি ও প্রিমিয়ার স্বনির্ভর অন্যতম। এ ছাড়াও দেশের যেসব অঞ্চলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আমরা এসএমই খাতে প্রায় ৭০০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছি যা প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট ঋণের ৩০ শতাংশের উপরে। অপরদিকে কৃষি ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রদত্ত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। আশার আলো হচ্ছে— এসএমই ও কৃষিখাতে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে আদায় বেশ সন্তোষজনক। আপনারা জেনে খুশি হবেন আমাদের এসএমই ও কৃষিখাতে খেলাপি ঋণের হার মাত্র ২.০২ শতাংশ। উল্লেখ্য ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি ঋণে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩০ কোটি যা বিতরণে আমরা কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রিমিয়ার ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের এ লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে।’

ব্যাংকের আর্থিক সূচকে সামগ্রিক অবদান রাখার বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসএমই ও কৃষি ঋণ বিভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি তথা কৃষিঋণ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাংকের সার্বিক ঋণ ঝুঁকি হ্রাস করে খেলাপি ঋণকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ অবদান রেখেছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাইন্ডেশন কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের ফলে ব্যাংক বিনিয়োগ— আমানতের অনুপাত অনুকূলে রাখতে ও কস্ট অব ফান্ড হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে। যা ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ক্যামেল্স রেটিংয়ের বিভিন্ন সূচকে যার প্রতিফলন লক্ষণীয়। সার্বিকভাবে ব্যাংকের ঊর্ধ্বমুখি সব সূচকে এসএমই ও কৃষি ঋণ বিভাগের অবদান অনস্বীকার্য।’

বিজ্ঞাপন

আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক গণমানুষের ব্যাংক হওয়ার প্রত্যয়ে এরইমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করি, তারই ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সাল নাগাদ এসএমই ও কৃষিঋণ খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণের ৫০ শতাংশ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ব্যাংকের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্রতা হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ প্রিমিয়ার ব্যাংকের লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয় দেশের সামগ্রিক অথনৈতিক উন্নয়নে সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা।’

এ উদ্যোগ নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অধিকন্তু দেশের নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে আমরা গুরুত্বারোপ করছি। মহিলা উদ্যোক্তাদের মাঝে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা বিতরণের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্তকরার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। যা দেশের সুষম আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আমার প্রত্যাশা। এভাবেই প্রিমিয়ার ব্যাংক হবে গণমানুষের ব্যাংক ও আস্থার প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন