বিজ্ঞাপন

চার্জশিটভুক্ত আসামীকে জজ নিয়োগ, মহিলা পরিষদের উদ্বেগ

December 2, 2021 | 10:38 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১০ ধারার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী শাহ পরানকে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বিচারের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে  একজন নারী নির্যাতকারীকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কিভাবে ওই ব্যক্তির পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন। সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শাহ পরানের নিয়োগ স্থগিত রেখে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে অবহেলা থাকলে অবহেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছে।

গত ১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ একটি  টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদে জানা যায় যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১০ ধারায় মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী শাহ পরান সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। জানা যায়, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ শাহ পরান কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে পাশের নারী যাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। ওই নারী ঘটনার প্রতিবাদ করলে শাহ পরান এক পর্যায়ে মেয়েটির ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল মুচড়ে দেওয়াসহ শারীরিকভাবে আঘাত ও শ্লীলতাহনি করে। গত ৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় শাহ পরানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার ওই নারী মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহকারী পরিচালক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় শাহ পরানকে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করছে বিচার বিভাগের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ মান সমুন্নত রাখা না হলে নারী ও কন্যাশিশুর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধার সৃষ্টি করবে। শাহ পরান সহকারি জজ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তথ্য গোপন ও কারচুপি করার বিষয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। সেইসাথে যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আলোকে পৃথক আইন তৈরিসহ রায়ের বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানাচ্ছে।

সারাবাংলা/আরএফ/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন