বিজ্ঞাপন

মানবকল্যাণে শেখ হাসিনার যোগ্য উত্তরসূরী

December 9, 2021 | 10:38 pm

মানিক লাল ঘোষ

‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’

বিজ্ঞাপন

কবি কামিনী রায়ের এই মহৎ পঙ্ক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবসেবায় পৃথিবীতে নিজেকে উৎসর্গ করে নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন— এমন ব্যক্তির সংখ্যা নিতান্তই কম। তার মধ্যে আবার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জনকের নাতনী ও একটি দেশের চার বারের নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রীর কন্যার নিজেকে রাজনীতি ও ক্ষমতার বাইরে রেখে মানবকল্যাণে ব্যস্ত থাকার ঘটনা সত্যি বিরল। সেই বিরল মানবসেবীর নাম সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার সুযোগ্য কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্ম তার। ব্যক্তি জীবনে তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরী হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সায়মা ওয়াজেদ নিজেকে ভিন্ন পরিচয়ে গড়ে তুলেছেন। সারাবিশ্বে আজ অটিস্টিক শিশুদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এই যোগ্য উত্তরসূরী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য সায়মা ওয়াজেদ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর লাভ করেন বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ের ওপর তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আমাদের দেশের অনেক অটিজম শিশু সমাজে আলোর মুখ দেখে না। অনেকে তাদের শনাক্ত করতে পারেন না, আবার অনেক মা-বাবা মনের কষ্টে কিংবা সামাজিক চক্ষুলজ্জার ভয়ে অটিজম শিশুদের আড়াল করে রাখেন। সামাজিক সব অনুষ্ঠান থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। মানবাধিকারবঞ্চিত, চিকিৎসাবঞ্চিত সেই শিশুদের সামাজিক অধিকার ও তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতেই আদর আর সোহাগের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। মানবসেবায় নানী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব গুণ পেয়েছেন তিনি। আর চিন্তা-চেতনা ও ভাবনায় নানা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যেন তাকে তাড়িত করে মানবকল্যাণে, দেশের সেবায়।

বিজ্ঞাপন

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়বিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন তিনি। খুব অল্প সময়েরে মধ্যেই শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।

২০১৪ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পুতুলকে ‘হু এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে। মনস্তত্ববিদ পুতুল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকস-এর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। ২০১৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলেও অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের জন্য শত সেরা নারীর তালিকায় স্থান পান তিনি। বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্শ্বি স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হিসেবে স্বীকৃতি পান সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উত্তরসূরী সায়মা ওয়াজেদের এগিয়ে চলার পথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সাফল্যের পালক। বেড়েছে আরও দায়িত্ব। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবল ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের যে জোট সিডিএফ, তার চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এই সিডিএফের নির্বাচিত চার জন দূতের একজন পুতুল। সিডিএফের পক্ষ থেকে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, যার রক্ত ও চেতনায় বহমান মানবিক সেবা আর দেশপ্রেম। শুধু অটিজম আর মানবিক সেবায় ব্যস্ত নয়, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মানবতার বাতিঘর খ্যাত মা শেখ হাসিনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ভাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বাংলাদেশের মানুষের সেবায়ও এগিয়ে আসবেন তিনি— এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষমাণ দেশের জনগণ। মানবতার বাতিঘর যোগ্য মায়ের যোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্য অন্তহীন শুভকামনা। তার মানবিক আলোয় উদ্ভাসিত হোক এ দেশের তরুণ সমাজ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য

প্রিয় পাঠক, লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই ঠিকানায় -
sarabangla.muktomot@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব, এর সাথে সারাবাংলার সম্পাদকীয় নীতিমালা সম্পর্কিত নয়। সারাবাংলা ডটনেট সকল মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার দায় সারাবাংলার নয়।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন