বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য: তথ্যমন্ত্রী

December 12, 2021 | 6:27 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: র‌্যাব কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তবে এই ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রোববার ( ১২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে অধিদফতর প্রকাশিত ‘মা ও শিশু’ বিশেষ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে আমাদের উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমনে দুই দেশের টেকনিক্যাল সহযোগিতায় আমাদের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপকৃত হয়েছে। কারণ সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিদের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক দমন করতে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। কিন্তু মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট যেভাবে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক, অগ্রহণযোগ্য, অকার্যকর।

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার ঘটনা বাংলাদেশে আগে ঘটেছে কি না বা বহু পূর্বে ঘটেছে কি না সেটি আমার জানা নেই। কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছাড়া হঠাৎ করে এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী হয়েছে কি না সেটিও একটি বিষয়। আমরা আশা করব আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে আমাদের দেশের ‘সেন্টিমেন্ট’ অনুধাবন করতে সমর্থ হবে।

মন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। কিন্তু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনকারী ইসরাইলের কোনো কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেখা যায়নি। অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সম্পর্ক যুক্ত সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আমরা দেখি নাই।

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। জর্জ ফ্লয়েডকে যেভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে হত্যা করা হয়েছে, এমন ঘটনা বাংলাদেশে কখনো ঘটেনি। মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রচণ্ডভাবে, ক্রমাগতভাবে বছরের পর বছর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং তাদের পুলিশি হেফাজতে যে মৃত্যু হয় সেগুলো নিয়ে, গুয়ানতানামো বে’তে বন্দিদের ওপর নির্যাতন নিয়ে, বিশ্বব্যাপী সমালোচনা রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিবাদ হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসীরা যখন বর্ডার ক্রস করার চেষ্টা করেছে, তখন তাদের ছেলেমেয়েদেরকে যেভাবে বছরের পর বছর মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, সেটি অন্য কোনো দেশে হয়েছে কি না আমার জানা নেই। এ নিয়েও বিশ্বব্যাপী এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিবাদ হয়েছে, এখনও হচ্ছে।

মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনকারী মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো দেশ নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়, এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমরা মনে করি, এই ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা মনে করি, কিছু এনজিও ও ব্যক্তিবিশেষ ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং তারা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় অন্যান্য দেশেও ক্রমাগতভাবে অসত্য তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করে, সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই এ ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী এসময় ‘মা ও শিশু’ সাময়িকী প্রকাশের জন্য তথ্য অধিদফতরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা মা ও শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সার্বিকভাবে উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ শিশুর প্রকৃত শিক্ষক তার মা এবং মা ও শিশুর সুস্থতার মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন করার সম্ভব। এই সাময়িকী প্রকাশের পাশাপাশি অনলাইনেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শাহেনুর মিয়ার সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মকবুল হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। তথ্যসচিব মো. মকবুল হোসেন সাময়িকীর নিবন্ধ ও অঙ্গসজ্জার প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের উৎকৃষ্ট প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে তথ্য অধিদফতরকে পরামর্শ দেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন