বিজ্ঞাপন

১৫ বছরে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে ৩ গুণ: বিশ্বব্যাংক

December 20, 2021 | 8:29 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে গত ১৫ বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। আর রাজধানী ঢাকায় প্লাস্টিকের মাথাপিছু ব্যবহার সারাদেশের গড় পরিমাণের তুলনাতেও প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০০৫ সালে দেশে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ০১ কেজি। ২০১৪ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ কেজিতে। আর ২০২০ সালে এসে এই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৯ কেজি, যা ২০০৫ সালের প্রায় তিন গুণ।

এদিকে, ২০০৫ সালে ঢাকায় মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ২ কেজি। ২০১৪ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২ কেজিতে। আর ২০২০ সালে এসে ঢাকায় প্লাস্টিক ব্যবহারের মাথাপিছু গড় পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ কেজিতে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের ‘টুওয়ার্ডস আ মাল্টি-সেকটোরাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর সাস্টেইনেবল প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা (মাল্টিসেকটোরাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রয়োজন। সেটি হতে হবে স্বল্প মেয়াদি (২০২২-২০২৩), মধ্য মেয়াদি (২০২৪-২০২৬) ও দীর্ঘ মেয়াদি (২০২৭-২০৩০ পর্যন্ত)।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার জন্য কৌশলের ভিত্তিতে প্লাস্টিকের সার্কুলার ব্যবহারে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি পুনরায় ব্যবহার করা প্রয়োজন। এই কৌশল বাস্তবায়ন একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন মূল্য শৃঙ্খল, সবুজ দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করতে সাহায্য করবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আমরা সচেতন নই। যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলি। আমাদের সচেতন হতে হবে। বিদেশে গেলে আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলি। কিন্তু দেশে এসে কেন যেখানে সেখানে ফেলি? আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। এসময় তিনি সিংগেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বুশরা নিশাত বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের অর্ধেক পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের এই পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে গড় মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ১০০ কেজিরও বেশি। এটি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দূষণের শিকার হওয়া দেশগুলোর তালিকার সবচেয়ে ওপরে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। প্লাস্টিক বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাই এর জন্য দায়ী।

বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন বলেন, দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও নগরায়নের কারণে বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ও দূষণ উভয়ই হঠাৎ বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারি প্লাস্টিক আবর্জনার অব্যবস্থাপনাকে আরও বাড়িয়েছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা দূষণের হার কমিয়ে সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের জন্য প্লাস্টিকের টেকসই ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে প্লাস্টিক দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের প্রথম দেশ, যেখানে প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর এর ব্যবহার আবারও শুরু হয়। পাট প্যাকেজিং আইন ২০১০-এ ছয়টি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের (ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি) জন্য প্লাস্টিকের প্যাকেজিংয়ের বিকল্প হিসেবে পাটজাত প্যাকেজিং ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে একটি উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উপকূলীয় অঞ্চলে এবং সারাদেশের সব হোটেল ও মোটেলে একক ব্যবহারের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। এত কিছুর পরও প্লাস্টিক দূষণ কমছে না।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন