বিজ্ঞাপন

পেটের দায়ে মালদ্বীপ: কোথায় না যাচ্ছে অদক্ষ বাংলাদেশিরা!

December 27, 2021 | 7:17 pm

মোস্তফা কামাল

বাংলাদেশিরা মালদ্বীপেও যায়? সেখানে আবার অবৈধ বাংলাদেশিও আছে? সাম্প্রতিক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে আলোচনা না করলে সম্ভবত অনেকের জানাই হতো না এসব প্রশ্নের জবাব।

বিজ্ঞাপন

খুশিতে, ঠেলায় বা ঘুরতে নয়— কাজের খোঁজে বহু বাংলাদেশি মালদ্বীপ যায়। তাদের মধ্যে অবৈধ বা নিয়মবহির্ভূত অবস্থানকারীও অনেক। সবশেষ হিসাবে জানা গেছে, সাড়ে ৫ লাখ জনসংখ্যার মালদ্বীপে কাজ করছে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি। তাদের ৫০ হাজারই অবৈধ। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কাছে মালদ্বীপ সফরটি বেশ আশা জাগিয়েছে। না জানাদের কাছে বিষয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং।

বাংলাদেশ থেকে মানুষ অবৈধভাবে মালদ্বীপ কেন যায়? কেন এ অ্যাডভেঞ্চার?— এসব প্রশ্নের বাস্তবতা অবশ্যই আছে। মালদ্বীপে শ্রমমূল্য তুলনামূলক কম। তবে মুদ্রামান কম নয়। মালদ্বীপের এক রুপি বাংলাদেশের সাড়ে ৫ টাকা। মালদ্বীপে যাওয়া বাংলাদেশিরা অবৈধ হয়েছেন কখনো দালালের খপ্পরে পড়ে,  কখনো অসচেতনতা ও অদক্ষতার কারণে। তাদের অনেকে খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

কম টাকা খরচ ও তুলনামূলক কম ঝক্কি-ঝামেলায় পৌঁছানো সম্ভব বলে হাঁকডাক না দিয়ে অনেকে মালদ্বীপ যান। বাংলাদেশে বিশ্বের বড় বাজার থাকা সত্ত্বেও যারা লোকলজ্জা বা অন্য কারণে যেনতেন কাজ করতে পারেন না, তারা সেখানে যান। এ ছাড়া মালদ্বীপের পর্যটন হোটেলের মতো কিছু কিছু ব্যবসায় বাংলাদেশিদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। তাদের হাত ধরেই সেখানে যান অনেকে। গার্মেন্টসেও কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা আছে। এসব তথ্য-সাবুদের আলোকেই প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হয়েছে।

বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ যাওয়া, সেখানে কাজ খোঁজা নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা বেমানান। মালদ্বীপে কাজকর্ম করতে যাওয়া বা মালদ্বীপকে অন্যভাবে দেখার কারণ নেই। বাংলাদেশেও কাজ করছেন ভারতীয় অনেকে। দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সৌন্দর্য অপার। মালদ্বীপ মুসলিম দেশ হলেও ধর্মান্ধতা নেই। সবার জন্য কাজের নিশ্চয়তা না থাকায় বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যায়। কম্বোডিয়ায়ও লক্ষাধিক মানুষ কাজ করে। হাইতি, সুদান, মালাওয়ি, বতসোয়ানা, সেনেগাল, রুয়ান্ডা,তাঞ্জানিয়া, মাদাগাস্কারের মতো দেশে বাংলাদেশের কত মানুষ কাজ করে— এর আপ টু ডেট হিসাব নেই।

বিজ্ঞাপন

দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি লোক সাচ্চা বেকার। দেশে প্রতিবছর ২১ লাখ তরুণ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হচ্ছেন। উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা দিন দিন কমছে। ওইসব দেশে শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এজন্য বাংলাদেশে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হবে। নইলে কাজের খোঁজে উগান্ডাও যেতে হবে। গিয়েছিলেনও কয়েকজন। পাচারকারীদের হাত ধরে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে দেশটির রাজধানী কামপালা থেকে উদ্ধার করে আনতে হয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় গিয়ে কাজ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বাজিমাত করার ঘটনাও কিন্তু রয়েছে। মাছ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কয়েক  বাংলাদেশি। একসময়ের পতিত জঙ্গলে মাছ চাষ করে তারা দেশটিতে উন্মোচন করেছেন নতুন এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ৯৩ হাজার ৬৫ বর্গমাইলের দেশ উগান্ডা, লোক সংখ্যা চার কোটির কম। প্রধান খাদ্য কলা আর শিমের বিচি। তারপরও প্রাণিজ আমিষের চাহিদার বড় অংশটি পূরণ হয় ভিক্টোরিয়া হ্রদের প্রাকৃতিক মাছ থেকে। সে কারণে মাছ চাষে তেমন আগ্রহ নেই স্থানীদের। সেখানে একের পর এক মাছের খামার গড়ে সাড়া জাগিয়েছেন প্রবাসী কয়েকজন। আর মাছ চাষ, পরিচর্যাসহ সব কাজে প্রযুক্তি ও কৌশল বাংলাদেশিদের কাছ থেকে শিখে নিচ্ছে উগান্ডার তৃণমূল জনগোষ্ঠী।

বিজ্ঞাপন

দেশে কর্মসংস্থান ও বেকাররা প্রশিক্ষণহীনতার এ দশা চলতে থাকলে পেটের দায়ে উগান্ডা কেন, চাঁদের দেশেও উড়াল দেবে বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ থেকে একসময় অনেক দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের জন্য কর্মীরা গেলেও গত কয়েক বছরে সেই বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়ে উঠেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭২টি দেশে কাজ নিয়ে যায় বাংলাদেশিরা। প্রতিবছর বাংলাদেশে থেকে সরকারিভাবে আট থেকে ১০ লাখ শ্রমিক বিদেশে যান। এদের বেশিরভাগই যান অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। এরপরই রয়েছে ওমান, কাতার, বাহরাইনের মতো দেশগুলো। জর্ডান, সিঙ্গাপুর, রোমানিয়া, ইত্যাদি দেশেও অল্প কিছু করে কর্মী যাচ্ছেন। ভ্রমণ ভিসা, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার ভিসা নিয়ে অনেকে গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যান।

বিজ্ঞাপন

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন