বিজ্ঞাপন

আইন না হলেও ইসি গঠন নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই: আইনমন্ত্রী

December 29, 2021 | 5:53 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের পক্ষে থাকলেও পরবর্তী ইসি গঠনের আগে এই আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। আর আইন না হলেও রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করছেন, সে প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন হোক, এটি আমিও চাই। কিন্তু এবার তার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই্। আর সংসদকে পাশ কাটিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা সঠিক হবে বলে মনে হয় না।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আইনমন্ত্রী বলেন, ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এটি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নামের প্রস্তাব নেবেন। এর মাধ্যমে হবে সার্চ কমিটি। সেই সার্চ কমিটি যেসব নাম প্রস্তাব করবে, তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি নতুন ইসি গঠন করে দেবেন। এই এই সার্চ কমিটির সদস্য হবেন আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতি, হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং অডিটর অ্যান্ড কম্পট্রোলার জেনারেল (সিএজি)। তারা সবাই সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। আর  দু’জন হবেন সিভিল সোসাইটির সদস্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই। সরকারি দলের কেউ নেই। সেই সার্চ কমিটি ১০ জনকে নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম পাঠাবেন। সবার নাম দেওয়ার অধিকার আছে, ক্ষমতা আছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো বিতর্ক করার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এ-ও জানি, এর কিছু অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহার হয়েছে। এগুলো যেন বন্ধ হয়, সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন কোনো সাংবাদিককে মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় না। আগে যাচাই-বাছাই হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে আমি খবরের কাগজ পড়ি। তখন আমার বয়স আট বছর। তখন ক্রাইম রিপোর্টিং আলাদাভাবে ছিল না। কিন্তু এখন আলাদা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছেন সাংবাদিকরা। অপরাধের তথ্য এখন অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানার আগেই দিচ্ছেন সাংবাদিকরা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সবার। এখানে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে সুসম্পর্ক, তা খুবই গভীর হয়েছে। এটি ইতিবাচক।

মন্ত্রী আরও বলেন. আমাদের দেশে যত টকশো হয়, এত টকশো অন্য দেশের গণমাধ্যমে হয় না। ফলে আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতা নেই, এটি বলা যাবে না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও হচ্ছে। এটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠুসহ অন্যরা বক্তৃতা করেন।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন