বিজ্ঞাপন

আতশবাজি ফাটানো, ফানুস ওড়ানো অমানুষ

January 5, 2022 | 12:49 pm

জুনাইদ আল হাবিব

যানজটের ঢাকায় শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়েছে বহুগুণ। যানজটে স্থবির নগর, তবুও হর্ণ বাজানো কি আর থামে! নির্বাচনকে ঘিরে উচ্চ শব্দে মাইকিং রীতিমতো মানুষের অসহ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষা চলছে, এরই মাঝে ভোটের আয়োজন। সুবোধ পালিয়ে গেছে শহর থেকে, এবার গ্রাম থেকেও যাওয়ার সময় এসে গেছে। যে মানুষগুলো জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের উপকার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তারাই আবার নির্বাচিত না হতেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন আমি এসেছি ক্ষতি করতে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষিত মানুষের আচরণ নিতান্তই মূর্খতার। এমন কাণ্ড আমরা দেখেছি থার্টি ফার্স্ট নাইটে। বিকট শব্দে আতশবাজি ফাটিয়ে শহরের বুকে উচ্চ শব্দ দূষণ, ফানুস উড়িয়ে আগুন লাগানোর কাণ্ড রীতিমতো আমাদের বাকরুদ্ধ করে। খবরে জানা গেছে, ফানুসের আগুনে ঢাকায় অন্তত ১০টি স্থানে আগুন লেগেছে। ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, ফানুস ওড়ালে ফানুস থেকে আগুনের সম্ভাবনা আছে, এটা কী আমরা জানি না? তবুও আমরা নববর্ষ উদযাপনে ফানুস উড়িয়েছি, হাতে ধরেই আগুন লাগিয়েছি শহরে। ফানুস ওড়ানো হলে সেটির যদি উড়ন্ত অবস্থায় আগুন না নেভে, তাহলে তো সেটি নিচে পড়লে আগুন ধরার সম্ভাবনাটাই বেশি থেকে যায়।

মানবসৃষ্ট এই সংকটে কারো যে প্রাণহানি হবে, তাও কি কেউ ভেবেছিল? রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইউছুফ রায়হানের চার মাস বয়সী শিশু তানজিম উমায়েরের প্রাণ যে কেড়ে নেবে এই আতশবাজির শব্দ, কেউ কি তা ভেবেছে? জন্মগতভাবে শিশুটির হৃদযন্ত্র ছিদ্রও ছিল। তাই চিকিৎসা চলছিল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। কিন্তু আগের দিনের আতশবাজির শব্দে অসুস্থ উমায়ের আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ছেলেটির বাবা বলছিলেন, ‘কী বিকট শব্দে আতশবাজি। আতশবাজির বিকট শব্দে ছেলেটা বারবার কেঁপে উঠছিল। তার সামনে গেলেই ভয়ে আঁতকে উঠছিল, দূরে সরে যাচ্ছিল। সারা রাত আতঙ্কে কাটে তার, শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। বিকট শব্দের এক পর্যায়ে আমি ও আমার স্ত্রী আমাদের ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরি। বুকে তার মাথা রাখি। ছেলেটা তখনো স্বাভাবিক হচ্ছিল না। কে জানতো, পরের দিনই আমাদের ছেড়ে যাবে সে।’ কারো পৌষ মাস যে কারো সর্বনাশ ডেকে আনে, সেটার ক্ষত হয়তো রয়ে যায় জীবনভর। যা এই নির্মম ঘটনা থেকে স্পষ্ট।

বিভিন্ন উৎসব এলে আতশবাজি ফাটানো যাবে না, এমন কিছু ধরা বাঁধা নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা পেলে শহরে আর এমন ঘটনার উদ্ভব হয় না। ঠিক যদি, এই ঘটনার পূর্বে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতো, তবে এই ভয়াবহতা সৃষ্টি হতো না। বাজারে বিক্রি করা এই আতশবাজিগুলো ফাটানো হলে যার শব্দ অনেকটা ককটেল বিস্ফোরণের মতোই। ককটেল বিস্ফোরণ আর আতশবাজি ফাটানোর মধ্যে তেমন পার্থক্যও নেই। একটি উৎসবকে ঘিরে এমন আয়োজন না হলে কি উৎসবটি পালন হয় না? একটু ভিন্ন চিন্তায় উৎসবটি পালন করা যায় না?

বিজ্ঞাপন

আতশবাজি বাজিয়ে, ফানুস উড়িয়ে যে টাকা অপচয় হয়েছে, আমরা কি পারতাম না এ টাকায় এ শীতের মৌসুমে কনকনে শীতে কাঁপুনি দেয়া শীতার্ত মানুষের গায়ে কম্বল তুলে দিতে? কেন এটুকু মানবিকতাবোধও আমাদের মনে জেগে ওঠে না!

এমন ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে বাজারে আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর সরাঞ্জাম নিষিদ্ধ করা হোক। উচ্চ শব্দে যে আতশবাজি ফাটানো হয়, তার আশপাশে যদি কোন শিশু বা বৃদ্ধা নচেৎ কোন হৃদরোগী থাকেন, তখন তার কি অবস্থা হয়, একটু ভেবে দেখুনতো। যুবক বয়সেও এ বিকট শব্দে আমরা আঁতকে উঠি, শিশু বা বয়স্ক বা রোগীদের কথা বাদই দিলাম।

বিজ্ঞাপন

তাই এখনই দাবি জোরালো, শব্দ দূষণের এমন আয়োজন নিষিদ্ধ করা হোক, ফানুস দিয়ে মানুষ মারার কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড দ্রুতই বন্ধ হোক।

লেখক: গবেষক

বিজ্ঞাপন
প্রিয় পাঠক, লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই ঠিকানায় -
sarabangla.muktomot@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব, এর সাথে সারাবাংলার সম্পাদকীয় নীতিমালা সম্পর্কিত নয়। সারাবাংলা ডটনেট সকল মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার দায় সারাবাংলার নয়।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন