বিজ্ঞাপন

শিশু ও বয়স্কদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

January 9, 2022 | 12:42 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রায় ১ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যারা অর্থাৎ একেবারে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ তাদের চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে দেওয়া যেতে পারে সে ধরনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৯ থেকে কমে ১ দশমিক ৩৩ দাঁড়িয়েছে। তবে এর বেশি আর কমানো দরকার নেই। আমাদের নতুন জনসংখ্যাও দরকার। আর যুব সমাজও দরকার, এটিও আমাদের দেখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৯ জানুয়ারি) দেশের বিভাগীয় আটটি শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তসহ বিভাগীয় শহরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের টানা মেয়াদে চিকিৎসা সেবা উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯-এ সরকার গঠন করার পর থেকে আমরা যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছি, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফলে মানুষ এখন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রায় ১৩ বছরে ১২টা বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১১টি বিশেষায়িত হাসপাতালকে সম্প্রসারিত ও উন্নয়ন করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ অত্যন্ত পুরনো একটা মেডিকেল কলেজ। মেডিকেল কলেজের অবস্থা তো খুবই খারাপ। যে কোনো সময় ধসে যেতে পারে। এ রকম একটি অবস্থায় রয়েছে। সেখানে সম্পূর্ণ একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করার পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি এবং তার প্ল্যানটাও করে ফেলেছি। সেখানে প্রায় ৫ হাজার রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা পায় এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাগুলিও সেখানে পায় তার ব্যবস্থা ঢাকা মেডিকেল কলেজের জন্য আমরা তৈরি করেছি।’

বিজ্ঞাপন

আমরা আশা করছি যে খুব শিগগিরই এর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব। তবে এটি বাস্তবতা যে, আমরা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে করতে পারব না। আমাদেরকে ধাপে ধাপে এক একটা উইং আলাদাভাবে করতে হবে। যাতে রোগীর চিকিৎসাটাও চলে আবার উন্নয়নের কাজটাও চলতে পারে। সেইভাবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে অবহিত করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

‘তাছাড়া আমরা আমাদের প্রায় ১ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যারা, একেবারে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ যারা তাদের চিকিৎসা সেবাটা যাতে বিনামূল্যে দেওয়া যেতে পারে সে ধরনের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি, এটি শুধু আমাদের এখানে না, সারা বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই করোনা মোকাবিলার জন্য আমরা বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। তা ছাড়া ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা, ভ্যাকসিন ক্রয় করা, পরীক্ষা করা এবং ভ্যাকসিনেশন( টিকা প্রদান) পৃথিবীর বহু দেশ কিন্তু বিনা পয়সায় দেয়নি পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশও দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু ভ্যাকসিন কেনাটাই না, ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য যে সমস্ত প্রয়োজন হয় তা ছাড়া লোকবল টেকনিশিয়ান প্রয়োজন হয় বা সেগুলো পরীক্ষা করার, এগুলো সব আমরা দিচ্ছি একেবারে বিনা পয়সায়। পৃথিবীর অনেক ধনী দেশও কিন্তু বিনা পয়সায় দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ দিচ্ছে। কারণ মানুষের সেবা করাটাই তো আমাদের বড় কাজ। এর জন্য বাজেটে আলাদাভাবে টাকাও বরাদ্দ রেখে দিয়েছি এবং যত টাকাই লাগুক এ কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখব।’

বিজ্ঞাপন

শিশু মৃত্যুহার, মাতৃমৃত্যু হার কমানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের হার যেখানে ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। সেখানে এখন তা ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৯ থেকে ১ দশমিক ৩৩ দাঁড়িয়েছে। তবে এর বেশি আর কমানো দরকার নেই। আমাদের নতুন জনসংখ্যাও দরকার। আর যুব সমাজও দরকার, এটিও আমাদের দেখতে হবে বলে অবহিত করেন শেখ হাসিনা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন