বিজ্ঞাপন

‘ভোটের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা শাস্তি পেয়েছে’

January 11, 2022 | 8:15 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের জনগণ ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে অতীতে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা তাদের শাস্তি পেয়েছে। মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। আজ আমরা পরপর তিন বার সরকারে আসতে পেরেছি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলে তিন তিন বার সরকারে আসতে পারতাম না, আজ ১৩ বছর পূর্ণ করতে পারতাম না। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এ দেশের উন্নয়নের চাকাটা গতিশীল থাকবে। যারা এ দেশে খুনিদের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের রাজত্ব কায়েম করেছিল, দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিল, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তাদের এই কথাটি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি জনগণের অধিকার নিয়েও আমরা কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।

স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আজ দুর্নীতির খোঁজ করেন তাদের বলব— ২০০১ সাল থেকে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, খোঁজ নিন। যারা ঋণখেলাপির কথা বলেন তাদের বলব— জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এলিট শ্রেণি তৈরির যে সংস্কৃতি এ দেশে শুরু করে গেছে, সেই খবরটা আগে নিন। শুধু তাই না, যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রপরিচালনা করে বাংলাদেশের উন্নয়নকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের কিছু প্রেতত্মা এখনো সমাজে আছে। তারা বিদেশেও বাংলাদেশের নামে নালিশ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশে হয়েছে। সাজা হয়েছে। তাদের ছেলেমেয়ে এবং যারা পালিয়ে গেছে তারা এখনো সক্রিয়। আর এক জন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজা পেয়েছে। দয়া করে আমরা তাকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার এক ছেলে আবার দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ফিউজিটিভ হয়ে গেছে বিদেশে পালিয়ে গেছে। এদের সব ষড়যন্ত্র কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

‘ভোটের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা শাস্তি পেয়েছে’

বিজ্ঞাপন

যারা শুধু দেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নে নাকি হাজার হাজার কোটি টাকা ধ্বংস হয়েছে। যদি ধ্বংসই হয়ে থাকে তাহলে আজ সারাদেশের মানুষ শতভাগ বিদ্যুৎ পাচ্ছে কীভাবে? রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার— এত কিছু তাহলে হলো কীভাবে? এই যে শিক্ষার সুযোগ তৈরি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন— এগুলো কীভাবে হলো?

তিনি বলেন, যদি অর্থ ব্যয়ই না হবে তাহলে এত কাজ হয় কীভাবে? এগুলো যারা দেখে না, তাদের চোখে খুনিদের ঠুলি, যুদ্ধাপরাধীদের ঠুলি। এরা দেশের উন্নয়ন দেখে না। লুটে খেতে পাচ্ছে না, সেটাই তাদের বড় কথা। তারা ওই কলঙ্কালসার-হাড্ডিসার গরীব দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ আনবে আর লুটপাট করবে, যা আগেও করে গেছে— এটাই বড় কথা।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন দেশকে ভালবাসতে, দেশের মানুষকে ভালবাসতে। বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি তিনি যেদিন ফিরে আসেন, ফিরে এসে বলেছিলেন— তার স্বপ্ন এ দেশের মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, উন্নত জীবন পাবে। সেটাই আমাদের আদর্শ।

জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি (জাতির পিতা) আমাদের সংবিধান দিয়ে গেছেন, নির্দেশ দিয়ে গেছেন, মৌলিক চাহিদার কথা বলে গেছেন। তার সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করা, অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করে এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা— এটিই আমরা চাই। আজ আমরা তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষমও হয়েছি।

জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আমি এটুকুই বলব— জাতির পিতা এই সংগঠন নিজের হাতে গড়ে দিয়ে গেছেন। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে আমরা এই সংগঠনকে আবার সুসংগঠিত করেছি। আর একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এই দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা পায়।

তিনি বলেন, আজ সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে চলে। মাথা উঁচু করে চলে। আজ আর বিদেশে গেলে শুনতে হয় না— ও, বাংলাদেশ কোথায় যেন! বাংলাদেশের মানুষ, ঝড়-বৃষ্টি দুর্ভিক্ষ তো লেগেই থাকে— সে কথা আর শুনতে হয় না। এটি জিয়ার আমলে শুনতে হয়েছে, খালেদার আমলে শুনতে হয়েছে, এরশাদের আমলে শুনতে হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মঙ্গা নেই, দুর্ভিক্ষ নেই, মানুষের সেই হাহাকার নেই। আমরা আজ মানুষের অন্ন-বস্ত্রের চাহিদা মেটাতে পেরেছি।

জাতির পিতা যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ১০ জানুয়ারিকে স্মরণ রেখে জাতির পিতার প্রত্যাবর্তনের সুবর্ণজয়ন্তী, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করেছি। তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে— বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।

বক্তব্যের শেষে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম; এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফী। গণভবন প্রান্ত থেকে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন