বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব পেলে পুরো দেশকেই ভেঙে ফেলবে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

January 13, 2022 | 5:22 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সমাবেশ ডেকে সেখানে যেভাবে ভাঙচুর, মারামারি করছে, তাতে মনে হচ্ছে দায়িত্ব পেলে গোটা দেশকেই ভেঙে ফেলবে। দলের চেয়ারপারসনকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য বিএনপি নেতাদের নানা হুমকির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব নেতা লুকিয়ে জামিন নিতে আদালতে হাজির হোন তাদের মুখে এমন হুমকি হাস্যকর বটে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপি গত কিছুদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে তারা সমাবেশ করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন জায়গায় মারামারি হচ্ছে। চেয়ার ভাঙচুর হচ্ছে, গতকাল আরও একধাপ এগিয়ে মঞ্চটাই ভেঙে ফেলেছে। যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতারা বক্তৃতা করবেন সেটা তাদের মারামারিতে ভেঙে গেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে যেখানে সমাবেশ ছিল সেজার সংসদ সদস্য সরোয়ার জামান নিজাম তাকে হেনস্তা করে টেনে হিচড়ে মঞ্চ থেকে নামানো হয়েছে। যারা নিজেদের সমাবেশ করতে পারে না সঠিকভাবে, মারামারি করে, মঞ্চ ভেঙে ফেলে; তারা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে দেশটাই ভেঙে ফেলবে।’

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন খালেদাকে মুক্তি দেওয়া না হলে জেলের তালা ভেঙে হলেও বিদেশ নেওয়া হবে- এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা আব্বাসসহ যে সমস্ত নেতারা জামিন নেওয়ার জন্য বোরকা পরে হাইকোর্টে যায়। পুরুষ হয়ে মহিলা বেশে হাইকোর্টে হাজির হয়। মির্জা আব্বাসও তাদের একজন ছিলেন। তারা যখন এ কথা বলেন, তখন এ বক্তব্য হাস্যসকর ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়। তাদের এই কথা হাসি রসের উদ্বেগ ঘটায় অন্যকিছু নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো সামরিক কারাগারে বন্দিদের নির্যাতন করা হয় এ জন্য জাতিসংঘ এই কারাগার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, এ বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্টের গুয়ানতানামো একটি কুখ্যাত কারাগার, যেখানে গত ২০ বছর ধরে বন্দিদের বিনা বিচারে রাখা হচ্ছে। ওই কারাগারে প্রচণ্ডভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বছরের পর বছর সেখানে বন্দিদের রেখে নির্যাতন করা হয়। এই কারাগার যে একটি নির্যাতন করার কারাগার সেটি সারাবিশ্ব জানে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন,‘ গতকাল (বুধবার) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যে বিবৃতি বা আহ্বান জানিয়েছেন। সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। সে বিবৃতিতে এটিও বলা হয়েছে, যে দেশটি সারাপৃথিবীতে মানবাধিকার রাক্ষা করার কথা বলে। তাদের দেশে কীভাবে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। সেটির উদাহরণ হচ্ছে গুয়ানতানামো বে কারাগার। আসলে এরকম অনেকেই প্রশ্ন রেখেছে, যে দেশে মানবাধিকার চরম লঙ্ঘিত হয়, সে দেশ আসলে মানবাধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী কথাবলার অধিকার কতটুকু রাখে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’

সারাবাংলা/জেআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন