বিজ্ঞাপন

নাসিক নির্বাচনের ৬৫% প্রার্থীই এসএসসি পাস নয়

January 13, 2022 | 5:32 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২০ জন প্রার্থীর (৬৪ দশমিক ৫২ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সুজনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হরফনামায় উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্যের বিশ্লেষণ করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১৪৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৭৪ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। ১৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং ১৮ জনের এইচএসসি। একই পথে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ২৫ ও ৩ জন। কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে এসএসসি’র গণ্ডি অতিক্রম না করা প্রার্থীর সংখ্যা ১২০ জন বা ৬১ শতাংশ। সাত জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং তিন জনের এইচএসসি। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে দুই ও এক জন। তবে সাত জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, তিন জনের স্নাতক এবং এক জন এসএসসি সমমান।

বিজ্ঞাপন

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে দেখছি। কিন্তু প্রার্থীদের তথ্য নিয়ে আলোচনা আমার চোখে পড়েনি। যদিও এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভোটাররা এসব তথ্য জনার মাধ্যমে বুঝে-শুনে ভোট দিতে পারেন। প্রার্থী প্রদত্ত হলফনামার ছকে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, অনেক প্রার্থী তাও সম্পপূর্ণভাবে পূরণ করেন না। কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে হুলফনামা যাচাই-বাচাই করা। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারে কমিশন। কমিশনকে তার এ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের কোনো সহযোগিতাও আমরা পাই না। আগে প্রার্থীদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যেত। কিন্তু গত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে আয়করের কোনো তথ্য কমিশন ওয়েবসাইটে দিচ্ছে না। এ আচরণের মাধ্যমে কমিশন কার স্বার্থে কাজ করছে? আমরা সিইসিকে বলতে শুনেছি, একজন এমপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তা শাস্তিযোগ্য নয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনই তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

বিজ্ঞাপন

দিলীপ কুমার সরকার প্রার্থীদের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে প্রার্থীদের এসএসসির নিচে শিক্ষার হার ছিল ৭২ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের পেশার বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা ৭৫ দশমিক ৮১ শতাংশ ভাগই (১৪১ জন) ব্যবসায়ী। তিন জন মেয়র প্রার্থীকে ব্যবসায়ী হিসেবে ধরলে এই হার দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ (১৪২ জন)। মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৬ জনের (২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৬ জনের (১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২০ জনের (১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় ৯ জনের (৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৮ জনের বিরুদ্ধে (৪ দশমিক ৩০ শতাংশ) অতীতে এবং ১ জনের (শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ) বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল ।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের (৫৩ শতাংশ) বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম এবং ৫৭ জনের (৩১ শতাংশ) ৫ লাখ টাকার অধিক। ৫০ লাখ টাকার অধিক আয় করেন তিন জন (২ শতাংশ)।

উল্লেখ্য, মোট ২২ জন (১২ শতাংশ) প্রার্থীর আয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের ক্ষেত্রে ১৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৮ জন (৩১ দশমিক ১৮শতাংশ) ৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক। কোটিপতি রয়েছেন মোট ১৪ জন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন