বিজ্ঞাপন

অর্ধেক নাকি সব আসনে যাত্রী— বিআরটিএ-মালিক সমিতি মুখোমুখি

January 13, 2022 | 10:40 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ১১ দফা বিধিনিষেধে গণপরিবহনগুলো অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দফতর এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকরের দিন-তারিখ জানাবে। কিন্তু বিধিনিষেধ চলাকালে গণপরিবহনে বহন করার যাত্রীর সেই সংখ্যা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ জানুয়ারি) পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে চলবে বাস। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) পরিবহন মালিক সমিতির প্রভাবশালী নেতা খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ জানিয়েছেন, বিআরটিএ থেকে মৌখিক নির্দেশনার পেয়ে শনিবার থেকে সব আসনে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়েছেন বাস মালিকদের। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলছেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত মালিক সমিতিকে দেওয়া হয়নি। বরং মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে, সেখান থেকে আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) বনানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বৈঠক হয়। বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ ঘোষ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে বাসে অর্ধেক আসনে যাত্রী বহন করা হবে। তবে এর জন্য ভাড়া বাড়বে না। বুধবার অবশ্য বাসে সব আসনে যাত্রী বহনের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করার কথা জানান পরিবহন মালিকরাও।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পরিবহন মালিক সমিতির প্যাডে খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার থেকে গণপরিবহনগুলো সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে। অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে গাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে, স্টাফ ও যাত্রীদের মুখে মাস্ক নিশ্চিত করতে হবে। স্টাফদের করোনা ভ্যাকসিন সনদও সঙ্গে রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বিআরটিএ’র সঙ্গে বৈঠকে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সিটের সমান যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানোর প্রস্তাব করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে গাড়িতে আসনের সমান যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে সারাবাংলাকেও একই কথা বলেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, বুধবার বিআরটিএ’র সঙ্গে বৈঠকে সব আসনে যাত্রী বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা তাতে সবুজ সংকেত পেয়েছি। সব আসনে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে আমাদের মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আসনের সমান যাত্রী বহন করতে পারব। এই মৌখিক নির্দেশনা আমরা সব পরিবহন মালিকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

মৌখিকভাবে জানানো বিষয়টি নিয়ে এ ধরনের নির্দেশনা গণপরিবহনগুলোকে দেওয়া যায় কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, বিষয়টি তেমন নয়। যেহেতু মৌখিকভাবে বলা হয়েছে, আশা করব যেন সেটাই মেনে চলা হয়। এক্ষেত্রে সব আসনে যাত্রী পরিবহন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কারও মাধ্যমে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেই আশা করছি। সেটি করা হলে দুর্ভাগ্যজনক হবে। তবে কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়— এটিও আমরা প্রশাসনকে বলেছি। আমাদের পরিবহনের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতার দাবির সঙ্গে অবশ্য একমত নন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার। মৌখিক কোনো নির্দেশনার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, গতকালের (বুধবার) বৈঠকে অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্তগুলো গতকালই জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেগুলোই সিদ্ধান্ত। আর এর বাইরে কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

পরিবহন মালিক সমিতির দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, সব আসনে যাত্রী পরিবহনের একটি প্রস্তাব মালিকরা আমাদের দিয়েছেন। তারা বলছেন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চললে সংকট হবে। রাতারাতি গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো সম্ভবও না। আমরা বৈঠকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে তাদের এই প্রস্তাবনার কথাও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়েছি। বাকি বিবেচনা তাদের। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের আদেশ পাইনি।

মৌখিক নির্দেশনার বিষয়ে নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, মৌখিক নির্দেশনা বলে কিছু নেই। সরকারিভাবে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেটিই সবাইকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে গত ১০ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ট্রেন-বাস ও লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে। সব যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সনদধারী হতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করতে বলে জানানো হয়।

এরপর রেল কর্তৃপক্ষ শনিবার থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। লঞ্চ মালিকরাও বলেছেন, তারা অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবেন। তবে ভাড়া বাড়াবেন না। এ বিষয়ে বাস নিয়েই বিভ্রান্তি কাটছে না।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন