বিজ্ঞাপন

‘২-৩ বছরের মধ্যে আইসিটি খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি সম্ভব’

January 13, 2022 | 11:16 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আইসিটি সেক্টরে যেভাবে রফতানি চলছে তাতে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) গুলনকশা মিলনায়নে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০২২-২০২৩) অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আইসিটি খাতের সঙ্গে আমি অনেক আগে থেকেই জড়িত। বাংলাদেশে প্রথম পিসি (কম্পিউটার) আমি আমদানি করেছিলাম। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির এক নম্বর সদস্য বেক্সিমকো কম্পিউটার। এছাড়া বাংলাদেশের আইটিখাত যেখানে চলে এসেছে সেটি কিন্তু আজকে বড় অবদান রাখছে দেশে। আইটি সেক্টরের পুরো রফতানি খাত যেভাবে যাচ্ছে সেটা মনে হচ্ছে এই বছরের মধ্যেই ৫ বিলিয়ন ডলার অর্জন রফতানি করা সম্ভব। যে গতিতে আইটি সেক্টরের রফতানি চলছে। বেসিস বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবে এবং দেশের জন্য কাজ করছে। আইসিটি সেক্টরে যেভাবে রফতানি চলছে তাতে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করা সম্ভব হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘বেসিসে ১৮শ এর বেশি সদস্য আছে। এখানে ছোট-বড় সবাই আছে। এটাই প্রয়োজন। সবাইকে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আর এটি হয়েছে বলেই এই আইসিটি খাত আরও বেশি এগিয়ে যাবে। আজকের ছোট কোম্পানি আগামীতে বড় কোম্পানি হবে। এদিকে নতুন কমিটি ডিসেম্বরের শেষের দিকে নির্বাচিত হয়েছেন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম জানুয়ারিতে চলতি বছরটিকে আইসিটি পণ্যকে জাতীয়ভাবে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন। তাই এটি যেমন আপনাদের জন্য আনন্দের তেমনিভাবে চ্যালেঞ্জের। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকলের জন্য একটি টার্গেট সেট করে দিয়েছেন। এই বছর আইসিটি হলো প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার। তাই আমি বলতে চাই সরকার এবং আমার সহযোগিতা সবসময় রয়েছে। আইসিটিখাতকে সবাই মিলে আরও এগিয়ে নিতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিদ্যুৎ খাত এগিয়ে গিয়েছি। আজকের বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে এবং বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। কেবল শহরে বা উপজেলায় না চর-অঞ্চল কিংবা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও বিদ্যুত এখন ঘরে ঘরে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে বেসিসের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভালো একটি ওয়েবসাইট কিংবা অফিসটাকে ডিজিটাল করলেই হবে না। দেখতে হবে বেসিসের কতো সদস্য এখানে কন্ট্রিবিউট করতে পারল। এটা মাথায় রাখতে হবে। এখন বিদ্যুৎ আছে প্রতিটি ঘরে ঘরে, ফলে সফটওয়্যার বা আইটি সেক্টরে বিদ্যুতের অভাব হবে না। আমরা পুরো সেক্টরে অটোমেশন দেখতে চাই। আমার সল্যুইশন দরকার যতো দ্রুত আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারব ততো আমার খরচ কমবে। আইসিটি খাত এখন অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। যতো বেশি ব্যবসার পরিধি বাড়ছে ততোবেশি সিদ্ধান্তের জন্য মানুষের সল্যুইশনটা দরকার। অনেক মন্ত্রণালয় এখনো ডিজিটালাইজেশন করতে আমরা পারিনি। শেষ মুহূর্তে আমরা এখনো পুরোপুরি অটোমেশনে যেতে পারিনি। দেশের কোম্পানিকে ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। দেখাতে হবে আমরা পারি কিছু করতে।’

নসরুল হামিদ আরও বলেন, ‘আইসিটি খাতের ওপর ভরসা করেই প্রধানমন্ত্রী এই বছরটিকে আইসিটি ইয়ার ঘোষণা করেছেন। ৫০-৬০ কোটি এখানে ফান্ড হবে এটা কিছু না। হাজার কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট কিভাবে হয় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। তাহলে এই সেক্টর বড় হবে।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

এদিকে বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘৮৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়ে বেসিস নির্বাচনকে এগিয়ে নিয়েছে। এতেই বোঝা যায় সংগঠনটির জনপ্রিয়তা। আগামী দুই বছর শুধু ব্যবসা বান্ধব নয় সদস্য বান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলব। স্বচ্ছ ও জবাব দিহিতার আওতায় নিয়ে আসব। এই বছর আইসিটির প্রডাক্ট বছর। ২০৪১ সালের ভেতরে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো। আমাদের বাজার সম্প্রসারণ করা হবে। অর্থনীতিতে আমরা অবদান রাখার চেষ্টা করতে। জিডিপি অবদান রাখার জন্য নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদায়ী সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর পুরো আইসিটিখাতের নানা সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে বিষয়ক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। একই সাথে বিদায়ী কমিটি নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরং করে নেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনের অ্যাম্বাসিডর,জাইকার প্রতিনিধিসহ বিদেশি অনেক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এসজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন