বিজ্ঞাপন

ইসি আইন প্রসঙ্গে কাদের— আমাদের হাতে কোনো ম্যাজিক নেই

January 17, 2022 | 6:31 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন বিষয়ক আইন গত ৫০ বছরেও প্রণয়ন করা যায়নি। এবারে এই আইনের একটি খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এরপর আইনটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংসদীয় কমিটি হয়ে চূড়ান্তভাবে পাসের জন্য উত্থাপন হবে সংসদে। এদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। তাহলে নতুন নির্বাচন কমিশন কি নতুন আইনের আওতায় গঠন করা সম্ভব হবে?

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসি গঠন সংক্রান্ত সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণের পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্রিফিংয়ে এ প্রশ্নটিও করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সাফ কথা— অন্য সব আইনের মতোই একই প্রক্রিয়ায় এই আইনটি পাস হবে। আওয়ামী লীগের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে নতুন ইসি গঠনের আগেই যেন আইনটি পাস হয়। তবে আইন পাসের জন্য আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ‘ম্যাজিক’ নেই।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ পরবর্তী ব্রিফ করেন আওয়ামী লীগ। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- সংলাপে অংশ নিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ

ইসি আইন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগও ইসি আইন চায়। এরই মধ্যে ইসি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর পরের ধাপে পূর্ণাঙ্গ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাবে। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে আইনটি জাতীয় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে। সংসদেই চূড়ান্ত হবে আইনটি।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই এই আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইন পাস করার বিষয়ে বিকল্প কোনো পদ্ধতি নেই। যেকোনো আইন পাসের জন্য প্রক্রিয়া একটিই। এই আইনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য। এর বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটার কোনো অবকাশ নেই।

চলমান সংসদ অধিবেশনেই ইসি আইনটি পাস করা সম্ভব হবে কি না— জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রয়াস থাকবে। এটি জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। আরও ৫০ বছর আগেই আইনটি প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল, হয়নি। কিন্তু আগে হয়নি বলে কি এখন হবে না? অবশ্যই হবে। এর প্রক্রিয়া চলছে। আইনটি পাসের জন্য সব প্রচেষ্টা নিয়োগ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আইনটি পাসের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোনো অবস্থান আছে কি না— গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রে যেভাবে আইন পাস হয়, সেই একইভাবে আইনটি পাস করতে সাংবিধানিক সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। (আইন পাসের জন্য) আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। আইন পাসের জন্য আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিকের তাস নেই। আইন নিয়ম অনুযায়ীই পাস হবে।

ইসি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরকম উপযুক্ত বিবেচনা করবেন সেভাবেই নিয়োগ দেবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ইসি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে মনে করে। বর্তমানে এ ধরনের আইন না থাকায় ইসি গঠনে কোনো ধরনের আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না। এর জন্যই আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে সবার মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের রীতি তৈরি করেছে। ব্যবস্থাটি এ পর্যন্ত দুই বার (২০১২ ও ২০১৭ সালে) অনুশীলন করা হয়েছে। দু’বারই দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এই অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। এই রীতিটির আলোকে এবং এই প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

এছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সব নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করছে আওয়ামী লীগ।

সংলাপে অংশ নেওয়ার নেতাদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ ও উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন