বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গার খেজুর গুড়ের কদর দেশজুড়ে

January 23, 2022 | 9:29 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় উৎপাদিত উৎকৃষ্টমানের খেজুরের গুড়ের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। শীতের চার মাস গাছীরা প্রতিদিন সকালে খেজুর গাছের রস থেকে গুড় তৈরি করেন। খাঁটি গুড় ও পাঁটালি কিনতে সকাল থেকে ভিড় করেন ক্রেতারা। জেলার চারটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫০টি খেজুর গাছ থেকে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪৫০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২০১৮ সালে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০টি খেজুর গাছ থেকে ২ হাজার ৩৫৯ মেট্রিকটন, ২০১৯ সালে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫০টি গাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন, ২০২০ সালে ১ লাখ ৯৫ হাজার ২৫০টি গাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন, ২০২১ সালে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০টি গাছ থেকে ২ হাজার ৪৫০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদন ও ২০২২ সালে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫০টি গাছ থেকে ২ হাজার ৪৫০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইট পোড়ানো কাজে খেঁজুর গাছ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হলেও আইনের কড়াকড়ির কারণে এখন তা হচ্ছে না। সে কারণে কৃষকরা তাদের পতিত জমি, বাড়ির আঙিনা ও জমির আইলে খেঁজুর গাছ লাগাচ্ছেন। একটি গাছ থেকে ৩ থেকে ৪ বছর খেঁজুর রস পাওয়া যায়। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে গাছীরা গাছ কেটে প্রস্তুত করেন। রস সংগ্রহের জন্য খেঁজুর গাছে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাটির ভাঁড় ঝুঁলিয়ে রেখে তারপর দিন ভোরে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। রস সংগ্রহের পর সেটা থেকে গুড় তৈরি করা হয়। একজন কৃষক শীতের চার মাসে একটি খেঁজুর গাছ থেকে দেড় হতে ২ লাখ টাকার গুড় বিক্রি করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

গুড় প্রস্তুতকারক কৃষক পৌর এলাকার বেলগাছী গ্রামের হুমায়ুন বলেন, এক ভাঁড় রস জ্বালিয়ে প্রায় ১ কেজি গুড় উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি ঝোল গুড় ১৫০ ও পাটালি গুড় প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভাল মানের গুড় কিনতে সকাল থেকেই ক্রেতারা গুড় প্রস্তুতের স্থানে ভিড় করেন।

গুড় ক্রেতা তোরাব আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার বেলগাছী গ্রামের গুড় অনেক ভাল মানের হওয়ায় সেখান থেকেই তিনি গুড় কেনেন। এই গুড় তিনি আত্মীয়-স্বজদের কাছে বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠান।

বিজ্ঞাপন

আরেক গুড় ক্রেতা রবজেল জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর গুড় কিনে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করেন। এতে তার অনেক ভাল লাভ হয়। পাড়া-মহল্লায় গুড়ের চাহিদাও অনেক বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড.আব্দুল মাজেদ জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বত্র খেঁজুর গাছের রস থেকে উৎকৃষ্টমানের তৈরি হচ্ছে। এ কাজের সঙ্গে শীত মৌসুমে অনেক কৃষক জড়িত থেকে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এ মৌসুমে ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে ইটভাটার মালিকরা খেঁজুর গাছ ব্যবহার করে। সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এ জেলায় খেঁজুর গাছ রোপণের ব্যবস্থা নিচ্ছে। গুড় প্রস্তুত করে কৃষকরা যাতে স্বাবলম্বী হয় সে ক্ষেত্রে প্রযোজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন