বিজ্ঞাপন

আয়-আয়ুর সন্ধিক্ষণে বায়ু গোলমাল

January 23, 2022 | 3:43 pm

মোস্তফা কামাল

বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যায় না। কথার কথা নয়, কাব্যও নয়। এটি ঐতিহাসিক সত্য। যুগে-যুগে প্রমাণিত। মহামারি, ঝড়-ঝঞ্জা, দুর্নীতি-অনিয়মের নানা তোড়েও আমরা চূড়ান্ত কাবু নই। তা বৈশ্বিক এই করোনা মারিতেও। গড়ের অংকে, অর্থনীতির বিচারে আমাদের মাথাপিছু আয়ে কমতি নেই। বরং বাড়ছে। বেড়েই চলছে। হিসাবের পথ-পন্থা-পদ্ধতি নিয়ে নানা কথা থাকলেও আয় বৃদ্ধির কথা শুনতে কার না ভালো লাগে!

বিজ্ঞাপন

বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার। চলতি অর্থবছরেও বাড়তির ধারা অব্যাহত। ২২৭ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩২৭ ডলার। ডলারের বাজার দর অনুযায়ী বাংলা মুদ্রায় তা প্রায় ৩০ হাজার টাকা। হিসাবটির ভিত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং কথামালা থাকলেও এটাই প্রতিষ্ঠিত। আমাদের মাথা গোণার আয় ভারতের চেয়ে বেশি এটাও সত্য। বলার অপেক্ষা রাখে না মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি রেমিট্যান্সসহ যাবতীয় আয়ের নাম মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে বস্তি থেকে গুলশান-বনানির বিত্তবানসহ সবার মাথাপিছু ভাগ করে দেওয়া হয়।

গড় আয়ুতেও আমাদের পজিশন ভালো। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের গড় আয়ু আরো বেড়ে এখন ৭২ বছর ৯  মাস হয়েছে। পুরুষের ৭১ বছর ২ মাস। আর নারীদের ৭৪ বছর ৫ মাস। অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি বাঁচে। দিনকে দিন, এমন কি করোনায় হাজারে হাজার মৃত্যুসহ আজাবের মধ্যেও গড় আয়ু বাড়ছে। বিশ্বে মানুষের গড় আয়ুর হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নবম। আর সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে তৃতীয়। গত ১৫ বছরে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৬ দশমিক ৫৩ বছর বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৮ বছর। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের মানুষের গড় আয়ুর তুলনায় যা অনেক বেশি। ভারতে মানুষের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ৩, পাকিস্তানে ৬৬ দশমিক ৪, মিয়ানমারে ৬৬ দশমিক  ৬, নেপালে ৬৯ দশমিক ২, আফগানিস্তানে ৬০ দশমিক ৫ বছর। তবে সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। দেশ দুটির মানুষের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৯ ও ৭৮ দশমিক ৫ বছর।

বিজ্ঞাপন

আয়-আয়ুর এই সন্ধিক্ষণে আমাদের গোলমালটা বাঁধছে বায়ুতে। তাও রাজধানী ঢাকার। দুষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার শীর্ষত্ব ছুটছেই না। এবার হয়েছে নাম্বার ওয়ান। দূষিত বায়ুর রাজধানী ঢাকা ছেয়ে আছে ধুলোর কুয়াশায়, গাছ-পাতার রং এখানে বিবর্ণ, নগরবাসীর চুল ও চেহারায় পর্যন্ত জমে থাকে ধুলোর আস্তর। বিষাক্ত বাতাসের এই শহরে নিঃশ্বাস নেয়াও দায়। ঢাকার বায়ু কেন এতো দুষিত? তা সারানোর কি চেষ্টা হচ্ছে না? এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলতোতে কী দশা দাঁড়াতে পারে?-এমনতর প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের খবর জানা হয় না। কেন? বায়ুদূষণ রোখা অসম্ভব? আয়ু-আয়ু বাড়ানোর চেষ্টার চেয়েও কঠিন?

সেই তুলনায় মোটেই কঠিন নয়। দরকার কার্যকর উদ্যোগ। দেশি-বিদেশি গবেষণায় প্রায়ই আসছে ঢাকার বায়ু দূষণের হালহকিকতের কথা। গবেষণাগুলোতে উঠে আসছে দেশের অভ্যন্তরে ইটভাটা, শিল্প কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির কালো ধোঁয়া, বস্তিতে প্রায় চল্লিশ লাখ চুলায় আবর্জনা, কাঠ-কয়লা ও কেরোসিন দিয়ে রান্নার ধোঁয়া, ঢাকার বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনের ধূলা ও ধোঁয়া এবং রাস্তা খোড়াখুড়ি ও নির্মাণকাজের ধুলার কথা। তারওপর রয়েছে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ। ইরান, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তানের শুষ্ক মরু অঞ্চল থেকে ধূলিকণা বাতাসে মিশে যায়। পশ্চিমা লঘুচাপের মাধ্যমে ওই ধূলিকণাসহ বাতাস ভারতে প্রবেশ করে। নভেম্বর থেকে ওই দূষিত বায়ু ঢোকে বাংলাদেশে। তা রোখা একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাদবাকি কারণগুলোর বিষয়ে অবশ্যই করনীয় আছে।

বিজ্ঞাপন

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন

সারাবাংলা/এসবিডিই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন