বিজ্ঞাপন

২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার পৌঁছাল ৯ম সর্বোচ্চে

January 23, 2022 | 9:39 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৯০৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এটি দেশে এক দিনে নবম সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্তের হার।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৩ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরের সই করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে ১৪ জন।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দেশে এখন পর্যন্ত এক কোটি ২১ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ২৮ হাজার হাজার ২২৩ জন।

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুরুর দিকে এই ভাইরাসের সংক্রমণের গতি ছিল একেবারেই ধীর। যত সময় পার হয়েছে, ততই বেড়েছে সংক্রমণের গতি। ৮ মার্চ প্রথম তিন জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৮ মার্চ ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে চারজনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ দিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ৪০ শতাংশ হলেও কম নমুনার কারণে এটিকে সর্বোচ্চ ১০ শনাক্তের হারের হিসেবে নেওয়া হয় নি।

বিজ্ঞাপন

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২০ সালের ১২ জুলাই। এ দিন দেশে আট হাজার ৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করে দুই হাজার ৬৬৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ০৪৪ শতাংশ।

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২১ সালের ২৪ জুলাই। এ দিন দেশে ২০ হাজার ৮২৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ছয় হাজার ৭৮০ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের তৃতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২১ সালের ২২ জুলাই। এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ১৮৭ শতাংশ।

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের চতুর্থ সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২০ সালের ৩ আগস্ট। এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৯১৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের পঞ্চম সর্বোচ্চ শনাক্তের হার দেখা যায় ২০২১ সালের ৮ জুলাই। এদিন সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৬১৭ শতাংশ।

এরপরে ২০২১ সালের ৬ জুলাই সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪৬২ শতাংশ। এটি দেশে এখন পর্যন্ত ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্তের হার। একই বছরের ১০ জুলাই সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪৫৯ শতাংশ যা এখন পর্যন্ত সপ্তম সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্তের হার। একই বছরের ৭ জুলাই দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৩২০ শতাংশ। এই এটি অষ্টম সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) দেশে ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৯০৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ দিন দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার হয় ৩১ দশমিক ২৯১ শতাংশ। এটি দেশে এখন পর্যন্ত নবম সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্তের হার।

এছাড়াও ২০২১ সালের ১২ জুলাই দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৪৩ শতাংশ।

ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটছে দেশে

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কোভিড-১৯ এর নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট ধীরে ধীরে ডেল্টার স্থান দখল করে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যে সিজনাল ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে ওমিক্রনের। কমিউনিটি পর্যায়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ ঘটছে। আমরা দেখছি, ওমিক্রন একটু একটু করে ডেল্টার জায়গা দখল করে ফেলছে।’

ডা. নাজমুল আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ২২ জানুয়ারি এসে শনাক্তের হার ২৮ শতাংশের বেশি হয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে (১৬ জানুয়ারি) যেটি ছিল ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।’

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন