বিজ্ঞাপন

লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ

January 23, 2022 | 11:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, জনগণের টাকা খরচ করে সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম পুষছে। জবাবে সরকারী দলের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ দাবি করেছেন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে বিএনপি লবিং চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৩ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, হাবিবুর রহমান, নেসার আহমেদ, সৈয়দা রুবিনা আখতার, সুবর্ণা মোস্তাফা, মমতা হেনা লাভলী, নার্গিস জামান ও বেগম জাকিয়া পারভীন খানম, ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য লুৎফুন্নেসা খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বিএনপিকে আন্তর্জাতিক লবিংবাজ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘বিএনপির লবিংয়ের কারণে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কল্পকাহিনী আমরা দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত করার জন্য তারা সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে বিএনপির লবিংয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব সাড়া দেয়নি। তাদের অপতৎপরতার পরেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখছে সব দেশ। বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন সদস্য কল্পনাপ্রসূত সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বিভিন্ন রূপকল্প তুলে ধরেছেন। আমরা সবাই জানি কোন দলের জন্ম হয়েছে সেনা ছাউনিতে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাদের নেতা জিয়াউর রহমান তখন যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের মাটিতে পুনর্বাসন করেছেন। শাহ আজিজুর রহমানের মতো কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসিয়েছিলেন।’

কাজী নাবিল বলেন, “১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত একাধিক সেনা অভ্যুত্থানের নামে একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। শুনেছি জিয়াউর রহমান ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে একসঙ্গে ২০ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সুসংগঠিত হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সুসংহত করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০১ সালে বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সরিয়ে চারদলীয় সরকারকে আনার পর আমরা নিজামী-মুজাহিদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখেছি। দেখেছি একের পর এক বাংলা ভাই, ইংরেজি ভাইয়ের উত্থান। একই দিনে ৬০টি জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা দেখেছি। দেখেছি জঙ্গি হামলা। তখন বাংলাদেশ হতে যাচ্ছিল জঙ্গিভূমি। তখন স্লোগান উঠেছিল- ‘বাংলা হবে আফগান’।”

বিজ্ঞাপন

কাজী নাবিল বলেন, ‘বর্তমানে সারাবিশ্ব করোনা মহামারি মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে আমরা জীবন ও জীবিকা উভয়ের ভারসাম্য রাখতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল বলেই জনগণ আওয়ামী লীগকে বারবার নির্বাচিত করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সামনের দিনেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

লবিস্ট বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আসলেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘লবিস্ট’ নিয়োগ করেছে কি না, করে থাকলে কোন দল কত টাকা খরচ করেছে, ওই টাকা কোথা থেকে খরচ করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। জবাবে আগামীতে তথ্য-প্রমাণসহ সংসদে বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সংসদে অনির্ধারিত আলোচনার সুযোগ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্টের পেছনে ৩২ কোটি টাকা খরচ করেছে। কী কারণে তারা এই লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছিল? এটা কী দেশের জনগণের স্বার্থে? রাষ্ট্রের স্বার্থে? নাকি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে? এই বিষয়টি ক্লিয়ার হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিএনপির একজন নেতা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ক্ষমতাসীন দল ২০১৪ সাল থেকে লবিস্ট নিয়োগ করে আসছে। ক্ষমতাসীন দল লবিস্টের পেছনে তিন লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৩০ কোটি টাকা প্রতি বছর খরচ করে আসছে। ক্ষমতাসীন দল কি আসলে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল? কী কারণে করেছিলেন? এই টাকা কি সরকারের কোষাগার থেকে গেছে? নাকি দলের নিজস্ব সোর্স থেকে গেছে? একইভাবে দেশের মানুষ ও আমরাও জানতে চাই, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগের টাকা কোত্থেকে পেল? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন কি না, করলে তার ফান্ড কোত্থেকে পেল? সার্বিক বিষয়ে নিরপেক্ষ সংস্থার তদন্ত বা সরকারের একটি বিবৃতি জানতে চাই। দেশের মানুষকে এটা জানানো হোক।’

এরপর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘অনুমান নির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন করা ঠিক নয়। ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘকে নোটিশ করেছে র‌্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশনে না নিতে। সেটার কী অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটার কী অবস্থা।’ বিএনপি আসলে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছে কি না, আওয়ামী লীগ করেছে কি না, এসব বিষয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন’ বলে তিনি আশা করেন।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন