বিজ্ঞাপন

২ মামলা আর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ‘জালে’ ঝুলছে মিতু হত্যা মামলা

January 24, 2022 | 8:25 am

রমেন দাশ গুপ্ত, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদ খানম মিতু হত্যায় তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটি জানিয়েছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত সাক্ষ্যস্মারকের নথি পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় থেকে সংস্থার প্রধান অতিরিক্তি মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদারের কাছে পাঠানোও হয়েছে। সাক্ষ্যস্মারক অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যেহেতু তদন্তে স্ত্রী খুনের সঙ্গে মামলার বাদী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, পিবিআই চেয়েছিল তার দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে মোশাররফের দায়ের করা মামলাটির তদন্ত এগিয়ে নিতে। কিন্তু আদালত বাবুল আক্তারের মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে দু’টি মামলা নিয়ে ‘টেকনিক্যাল ত্রুটি’ উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণও দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে একই ঘটনায় দুই মামলার তদন্ত সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়ে পিবিআই। এ অবস্থায় আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে মোশাররফের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তবে মোশাররফের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ্য আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

২ মামলা আর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ‘জালে’ ঝুলছে মিতু হত্যা মামলা

জানতে চাইলে পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের প্রধান পুলিশ সুপার কাজী নাঈমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মিতু হত্যার ঘটনায় আমরা বর্তমানে দু’টি মামলা তদন্ত করছি। এর মধ্যে বাবুল আক্তার যে মামলার বাদী ছিলেন, সেই মামলার অধিকতর তদন্ত করছি আদালতের নির্দেশে। আর মোশাররফ হোসেন যে মামলার বাদী ছিলেন, সেটিতে আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রথম মামলার তদন্তকে আদালতের পর্যবেক্ষণে সফল তদন্ত বলা হয়েছে। ওই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ আছে এবং ১৬৪ ধারায় কিছু জবানবন্দিও নেওয়া আছে, যেগুলো মামলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমরা প্রথম মামলাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। দ্বিতীয় মামলাটি আমরা আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এবং আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছি। আমরা এমই (সাক্ষ্যস্মারক) ঢাকায় পাঠিয়েছি।’

ঘটনাক্রম

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। প্রায় দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরদিন বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়— তদন্তে বাদী বাবুল আক্তারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ওই দিনই অর্থাৎ ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু ও শাহজাহান মিয়া।

পিবিআই হেফাজতে থাকা বাবুল আক্তারকে ১২ মে মোশাররফের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বাবুল আক্তার কারাগারে আছেন।

২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার এক আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানান, বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করান পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। তার ঘনিষ্ঠ সাইফুল হক, গাজী আল মামুন, মোকলেসুর রহমান ইরাদ এবং আসামি মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারও আদালতে জবানবন্দি দেন।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এসব জবানবন্দির একপর্যায়ে নিজের মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেন বাবুল আক্তার। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন প্রত্যাখান করেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখান করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

ফলে মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটির পাশাপাশি ‘আপাত নিষ্পত্তি‘ করা বাবুল আক্তারের মামলাটিও সক্রিয় হয়ে যায়। দুই মামলার সমান্তরাল তদন্তভার এসে পড়ে পিবিআইয়ের ওপর।

কী আছে আদালতের পর্যবেক্ষণে

আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নারাজি আবেদন নিষ্পত্তি করে যে আদেশ ও পর্যবেক্ষণ দেন, তাতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তকে ‘সফল’ বললেও ‘টেকনিক্যাল ত্রুটি’র কথাও উল্লেখ করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮-এর ১৫৪, ১৫৬ ও ১৯০ ধারার বিধান পর্যালোচনার বিষয় উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, ‘এটিই আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি যে একটি আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে একটিমাত্র প্রাথমিক তথ্য বিবরণী দায়ের হওয়া উচিত।’

সূত্রমতে, আদালত উল্লেখ করেন— ‘প্রথম এজাহারের পর পরবর্তীকালে তদন্তে বর্ণিত ঘটনায় ভিন্নতা পাওয়া গেলে বা এজাহারে বর্ণিত অপরাধ পরবর্তী সময়ে ভিন্নতর কোনো অপরাধে পরিবর্তিত হলে দ্বিতীয় এজাহার দায়ের করা যাবে মর্মে মহামান্য উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান মামলায় (বাবুল আক্তারের দায়ের করা) সম্পূর্ণ ঘটনা এজাহারে বর্ণিতমতে তদন্তকালে সত্য পাওয়া স্বত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল এজাহারকারী তদন্তে আসামি শনাক্ত হওয়ায় অত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা পুলিশ প্রবিধান ১৯৪৩-এর ২৭৫ নম্বর বিধির স্পষ্ট পরিপন্থি।’

আদালত আরও উল্লেখ করেন— এজাহারকারী বা বাদী তদন্তে আসামি হিসেবে শনাক্ত হলেও তাতে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২১ ধারার বিধান অনুযায়ী ওই এজাহারটি এজাহারকারীর বিরুদ্ধে বিচারের সময় প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন-

২ মামলা আর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ‘জালে’ ঝুলছে মিতু হত্যা মামলা

সূত্রমতে, আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশে পর্যালোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন— ‘তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারকারী বাবুল আক্তার মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার মূল আসামি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেছেন। বাবুল আক্তারকে আসামি করে নতুন একটি মামলা দায়েরের উদ্দেশে অত্র মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাবুল আক্তার আসামি হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তাকে মিথ্যাভাবে জড়িত করা হয়েছে বা সঠিকভাবে তদন্ত না করায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে— এসব কারণ উল্লেখ করে নারাজি দরখাস্ত দাখিল করার বা অধিকতর তদন্তের কোনো সুযোগ বাবুল আক্তারের নেই মর্মে প্রতীয়মান হয়।’

চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে আদালত পর্যালোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ‘এই মামলায় একটি সফল তদন্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে খুনের মোটিভ ও আসামি শনাক্ত হয়েছে। তদন্তে দু’জন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, দুই সাক্ষীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং কার্তুজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ হয়েছে। একটি সফল তদন্তের পরিসমাপ্তি কেবল টেকনিক্যাল একটি তুচ্ছ কারণে ব্যর্থ করে দেওয়া উচিত হবে না বরং এ মামলায় অধিকতর তদন্ত করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং পরবর্তী আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।’

জানতে চাইলে পিবিআই কর্মকর্তা কাজী নাঈমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আদালত কিন্তু সফল তদন্ত বলেছেন পর্যবেক্ষণে। এছাড়া টেকনিক্যাল ত্রুটির কথাও উল্লেখ করেছেন। এখন আমরা আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করব।’

আইনজীবীরা যা বলছেন

মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলা অর্থাৎ বাবুল আক্তারের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আদালতের প্রত্যাখান, আদালতের এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিতীয় দফায় মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলে পিবিআইয়ের উদ্যোগ নিয়ে তিন জন আইনজীবীর সঙ্গে কথা হয়েছে সারাবাংলার। তারা বলছেন, দ্বিতীয় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আরেক দফা আইনি জটিলতা তৈরি হবে।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ প্রবীণ আইনজীবী আহসানুল হক হেনা সারাবাংলাকে বলেন, ‘দ্বিতীয় মামলা অর্থাৎ মোশাররফ হোসেনের মামলায় যদি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাহলে জটিলতা তৈরি হবে। কারণ ওই মামলায় অনেক সাক্ষীর জবানবন্দি এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। আসামিরও জবানবন্দি আছে। সেগুলোর কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে উপায় হচ্ছে— বাবুল আক্তার ও মোশাররফ হোসেনের দুই মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা। এক মামলায় অভিযোগপত্র দিয়ে, আরেক মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সঠিক হবে না। কারণ উভয় মামলার ঘটনা তো এক। আবার উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে— সাক্ষীকে (বাদী) আসামি করা যায় না। সাক্ষীকে যদি আসামি করতে হয়, তাহলেও দুই মামলাকে একটিতে রূপান্তর করে তদন্ত করতে হবে। তাহলেই বিচার পাওয়া যাবে।’

‘এক্ষেত্রে বাবুল আক্তারকে যদি আসামি করতে হয়, তাহলে মোশাররফ হোসেনের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সমীচীন হবে না,’— বলেছেন আহসানুল হক হেনা।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫-ডি ধারা মেনে এই জটিলতার সমাধান করতে হবে। একজন একটি মামলা করেছেন, একই ঘটনায় আবার আরেকজন আরেকটি এজাহার দাখিল করেছেন। পুলিশ দু’টোই নিয়েছে। তবে তদন্ত হতে হবে একটি মামলা হিসেবে। অভিযোগপত্রও হবে একটি। এক্ষেত্রে এজাহারে বর্ণিত যে অভিযোগের ভিত্তি থাকবে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে— পুলিশ সেভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করবে। এ অবস্থায় অভিযোগকারী যদি আসামি হয়ে যান, প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশ গ্রহণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বাদী হতে পারবেন।’

মিতু হত্যাকাণ্ডে দুইটি মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মনে করি, একই ঘটনায় দু’টি মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। একটি মামলার তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সেই তদন্তের সূত্র ধরে আরেকটি মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিচারের পর্যায়ে আমরা অবশ্যই এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি আদালতের কাছে উপস্থাপন করব। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে আমরা বেনিফিট অব ডাউট পাব বলে আশা করছি।’

আইনি জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কাজী নাঈমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য আমরা আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছি। এক্ষেত্রে মোশাররফ হোসেনের মামলায় যেসব ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো প্রথম মামলায় ব্যবহার করা যাবে। কারণ এখানে ঘটনা একটি। আশা করছি, জটিলতা হবে না।’

উল্লেখ্য, তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে বাবুল আক্তারকে তার নিজের মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন