বিজ্ঞাপন

করোনায় সংক্রমণ ছাড়াল ১৭ লাখ, শেষ ১ লাখ ১৩ দিনে

January 25, 2022 | 6:50 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ৬৮৯ দিনের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১৩ দিনেই দেশে এক লাখের বেশি মানুষের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৮ হাজার ২৫৬ জন। এর আগে, ১২ জানুয়ারি দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে ১৬ লাখে পৌঁছায়। এর পর ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টাতেই দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩৩ জনের শরীরে। এদিনই দেশে দ্বিতীয় সংক্রমণ শনাক্তের নতুন রেকর্ড হলো। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৮ জন।

শেষ ১৩ দিনে ১ লাখের অধিক সংক্রমণ

বিজ্ঞাপন

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা কমে আসে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে। তবে জানুয়ারি মাসে এই সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনে দেশে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৫৮ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মাঝে গেল ১৩ দিনে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৯২ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই ১৪ দিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার লাখ ৬১ হাজার ৮৭৮টি।

যেভাবে এক লাখ থেকে ১৬ লাখ সংক্রমণ

বিজ্ঞাপন

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো তিনজনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ১০২ দিন পরে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় এক লাখ। ২০২০ সালের ১৮ জুন দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয় এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জনের মাঝে।

১৮ জুলাই দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় দুই লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৩০ দিনে।

বিজ্ঞাপন

২৬ আগস্ট দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় তিন লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৩৯ দিনে।

২৬ অক্টোবর দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় চার লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৬১ দিনে।

বিজ্ঞাপন

২০ ডিসেম্বর দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় পাঁচ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৫৫ দিনে।

২০২১ সালের ২৯ মার্চ দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ছয় লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৯৯ দিনে।

১৪ এপ্রিল দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় সাত লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১৬ দিনে।

৩১ মে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় আট লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৪৭ দিনে।

২৯ জুন দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ৯ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২৯ দিনে।

৯ জুলাই দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১০ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১০ দিনে।

১৮ জুলাই দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১১ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৯ দিনে।

২৮ জুলাই দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১২ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১০ দিনে।

৪ আগস্ট দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১৩ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৭ দিনে।

১৩ আগস্ট দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১৪ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৯ দিনে।

৩১ আগস্ট দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১৫ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১৮ দিনে।

২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১৬ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১৩৪ দিনে।

২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছাড়ায় ১৭ লাখ। দেশে এই এক লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হয় মাত্র ১৩ দিনে।

ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটছে দেশে

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কোভিড-১৯ এর নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট ধীরে ধীরে ডেল্টার স্থান দখল করে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে বর্তমানে যে সিজনাল ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে ওমিক্রনের। কমিউনিটি পর্যায়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ ঘটছে। আমরা দেখছি, ওমিক্রন একটু একটু করে ডেল্টার জায়গা দখল করে ফেলছে।’

ডা. নাজমুল আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ২২ জানুয়ারি এসে শনাক্তের হার ২৮ শতাংশের বেশি হয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে (১৬ জানুয়ারি) যেটি ছিল ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।’

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ?

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যকরী সদস্য ডা. মোশতাক হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়বেই। আর তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সংক্রমণের উৎস ও উৎপত্তিস্থল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যায় যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তা আশঙ্কাজনক। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বর্তমানে সরকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে। এটি কতটুকু কার্যকর হলো, সেটি জানতে হলে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে গিয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসতে শুরু করলে বোঝা যাবে যে এসব বিধিনিষেধ কাজ করেছে। নইলে বিকল্প ভাবতে হবে সরকারকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ভ্যারিয়েন্ট যাই আসুক না কেন, ভাইরাস থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে হলে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। একইসঙ্গে হাত ধোয়ার অভ্যাস চালু রাখতে হবে। মাস্ক না পরে যদি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে কেউ দুঃশ্চিন্তা করে, তবে লাভ কী! কেউ যদি ভাইরাসকে নিজের কাছে প্রবেশের সুযোগ না দেয়, তাহলে ভাইরাসের পক্ষে কাউকে আক্রান্ত করা সম্ভব না। সে কারণেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। একইসঙ্গে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভ্যাকসিন একদিকে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাবে, অন্যদিকে সংক্রমিতদের হাসপাতালে যাওয়ার সংখ্যাও কমাবে।’

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন