বিজ্ঞাপন

‘পুলিশের সেবা প্রার্থীরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়’

January 25, 2022 | 9:29 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

সেবা নিতে গিয়ে পুলিশের কাছে যেন কেউ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে আইনি সেবা নিতে পুলিশের কাছে যায়। আপনারা তাদের সমস্যা ও অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। তাদের (বিপন্ন ব্যক্তিদের) আন্তরিকভাবে আইনি পরিসেবা দিতে দ্বিধা করবেন না। তারা যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে পুলিশ কর্মীদের খেয়াল রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি তার সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৩ জানুয়ারি শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২২। ২৭ জানুয়ারি চলবে এই আয়োজন। এতে যুক্ত হয়ে পুলিশকে ‘বন্ধু’ হিসেবে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনি (পুলিশ) ‘বন্ধু’ হিসাবে জনগণের পাশে থাকবেন। মানবিক পুলিশ হোন এবং জনগণকে সেবা প্রদান করে সত্যিকারের শক্তিতে পরিণত হওয়ার জন্য তাদের আস্থা অর্জন করে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন। বাংলাদেশ পুলিশকে একটি ‘জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপ্রধান মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, সততা ও পরম নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক ও উন্নত দেশের উপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সময়োপযোগী পুলিশি সেবাদানের জন্য এরই মধ্যে নতুন ইউনিট গঠন করা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা করেন, এর ফলে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনগণ সহজেই ভালো পুলিশি সেবা পাবে। কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ে জনগণের আরও সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দেশ এরই মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকেও এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশকে নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনে সমৃদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি থিংক ট্যাংক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি বিকাশের ধারায় বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য অপরাধের মধ্যে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ বাড়ছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আমাদের পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম বড় সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদকের অপব্যবহার একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। দেশের যুব সমাজের একটি অংশ পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিবেচনা করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারিতে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে জনগণের সেবা করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের জনগণের সেবা, নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন