বিজ্ঞাপন

এমপি মোস্তাফিজের নির্দেশে হত্যার চেষ্টা— দাবি সেলিমুলের

January 26, 2022 | 4:55 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী তার ওপর হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে দায়ী করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুলের দাবি— মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এমপির দূরত্ব আছে। এর প্রতিশোধ নিতে এমপির নির্দেশে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র সেলিমুল হক বিভিন্ন অভিযোগ তুলে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর ‘রাজত্ব’ থেকে বাঁশখালীর মানুষকে উদ্ধারের আকুতি জানান।

উল্লেখ্য, ৭৫ বছর বয়সী শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। গতবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও এবার তার পরিবর্তে পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট এস এম তোফায়েল বিন হোসাইন। নির্বাচনে তোফায়েলকে সমর্থন করেননি বর্তমানে মেয়র পদে থাকা সেলিমুল, নতুন মেয়র দায়িত্ব নিলে যার মেয়াদ শেষ হবে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৭ জানুয়ারি বাঁশখালী পৌরসভার নির্বাচন হয়েছে। এর পরদিন রাত ৮টার দিকে সেলিমুল গিয়েছিলেন পৌরসভার মিয়ার বাজার এলাকায় উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হীরা মণির বাসায় চায়ের দাওয়াতে। সেখানে অতর্কিতে চারজন ঢুকে সেলিমুলের ওপর হামলা করে।

এমপি মোস্তাফিজের নির্দেশে হত্যার চেষ্টা— দাবি সেলিমুলের

বিজ্ঞাপন

সেলিমুলের ভাষ্য অনুযায়ী— তিনি যুব মহিলা লীগ নেত্রী হীরা মণির বাসায় চায়ের দাওয়াতে গিয়েছিলেন। তিনি ওই বাসায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর চারজন ভেতরে ঢোকে মেয়রকে বলে— তুমি এখন এখান থেকে নেমে যাও। মেয়র বলেন— কেন নামব? তখন তারা ‘তুই এমপির বিরোধিতা করেছিস, এমপিকে গালাগালি করেছিস’— এসব বলতে বলতে শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর চারজন মিলে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়রকে উদ্ধার করে।

হামলার পর আবার ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একজন বয়োবৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তিনি চারজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

বিজ্ঞাপন

হামলার জন্য সেলিমুল এমপি মোস্তাফিজকে দায়ী করে বলেন, ‘হামলাকারী সিরাজ, মিনার ও ইলিয়াছ এমপির লোক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে এমপির লোকজন আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।’

প্রথমে হামলার জন্য নতুন পৌর মেয়র এস এম তোফায়েল বিন হোসাইনকে দায়ী করলেও এখন এমপিকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হামলার পরদিন আমি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। ওসি সাহেব তখন এমপিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এমপি মামলা নিতে বলেন। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু তিনি মামলা নিতে সম্মতি দিয়েছেন, তাহলে তিনি নিশ্চয় এর সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু র‌্যাব দু’জন আসামিকে গ্রেফতারের পর তারা বলেছে, এমপির নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

হামলার কারণ প্রসঙ্গে সেলিমুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আগে থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি বাঁশখালীতে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বলে বক্তব্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন। এজন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা ওনার ডাকে সাড়া দেন না। নানা কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এমপির দূরত্ব আছে। এমপি মোস্তাফিজ সবসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের ওপর হামলায় উৎসাহ যোগান। এ কারণে গত দুইবছর ধরে তার কোনো অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা অংশগ্রহণ করে না। এর ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এমপির বিরোধ এখন প্রকাশ্যে।’

ওই এমপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নেই উল্লেখ করে সেলিমুল বলেন, ‘বাঁশখালীতে সংগঠনের খুবই দূরবস্থা। নিজস্ব বাহিনী এবং জামায়াত-বিএনপির লোক দিয়ে সংগঠন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পদে আছে এমন পাঁচজন লোকও ওনার সঙ্গে নেই। এমপি মোস্তাফিজ বাঁশখালীতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চায়।’

এমপির একক আধিপত্যে বাধা ভেবে হামলার মাধ্যমে সেলিমুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ গিয়ে উদ্ধার না করলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হত।’

ফের প্রাণনাশের আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এমপির রাজত্ব থেকে বাঁশখালীর মানুষকে মুক্তি দিন।’

এ সব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার (অর্থ) আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার আলম মণি এবং চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহবায়ক সাহেদ মুরাদ সাকু।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন