বিজ্ঞাপন

পাউবোর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ

January 27, 2022 | 10:37 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

নওগাঁ: জেলার রাণীনগর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। অনুমতি না নিয়েই নিজেদের ইচ্ছে মাফিক জায়গা দখল করে নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অফিস, সমিতির অফিস আবার কেউ স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীনগর উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে ছোট যমুনা নদী। বর্তমানে এই নদীর দুই পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বাজার-হাট এলাকায় অনুমতি ছাড়াই নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন। অবৈধ দখলদারদের অত্যাচারে ছোট যমুনা নদী বর্তমানে মৃত প্রায়। উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে বিশ্ববাঁধ সংলগ্ন স্থানে ওই গ্রামের অছির উদ্দিনের ছেলে এজাদুল ইসলাম একই গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের পেশী শক্তি দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলছেন ‘হরিশপুর (উত্তরপাড়া) সাত তারা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’র কার্যালয়। ইতোমধ্যই বাঁধের নিচে একতলা ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বর্তমানে উপরে আরও একতলা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব ভবন নির্মাণ বিষয়ে কিছুই জানেন না। একইভাবে উপজেলার কুজাইল বাজার, বেতগাড়ী বাজার, কৃষ্ণপুরের প্রেমতলীসহ উপজেলার জনমুখর স্থানগুলোতে ছোট যমুনা নদীর দুই তীরের জায়গা দখল করে অবৈধ ভাবে ভবন ও ব্যবসালয় তৈরির মহো উৎসব চলছে।

হরিশপুর (উত্তরপাড়া) সাত তারা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি এজাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটি সমিতি আছে। সেই সমিতির কার্যালয় নেই। তাই দখলদারের কাছ থেকে পজিশন নিয়ে সমিতির কার্যালয় নির্মাণ করছি। ভবনের জায়গার মধ্য কিছু খাস জায়গাও রয়েছে। সরকার যদি কখনো এই জায়গা ফেরত নেয় তখন এই বহুতল ভবন ভেঙে জায়গা ছেড়ে দেব।

বিজ্ঞাপন

পাউবো কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কি না- এই প্রশ্নের জবাবে এজাদুল ইসলাম বলেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য কারও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

ওই জমির প্রকৃত দখলদার বেলাল হোসেন বলেন, ওই জায়গাটি পূর্বে পৈতৃক ছিল কিন্তু বর্তমানে তা সরকারের। আমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চাষাবাদ করে আসছি। আমি দিনমজুরের কাজ করি আর এই জমি থেকে যে ফসল পাই তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু এজাদুল পায়তারা করে ওই ৩ শতাংশ জমিটি জোবর দখল করে সমিতির নামে ভবন নির্মাণ করছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান বলেন, নদীর বাঁধ থেকে নদীর ভিতরের দিকে পাউবোর কিছু জায়গা অধিভুক্ত করা থাকে। তাই সেই জায়গায় ভবন নির্মাণ করার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর দুই তীরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কয়েক হাজার ভবন নির্মিত হয়েছে। আমরা সেই সব অবৈধ ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করছি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন